টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আরএসএস বানাচ্ছে মাদ্রাসা। ভাবছেন কী প্রতিবেদক ভুল বকছে! একদম নয়। সত্যিই আরএসএস বানাচ্ছে মাদ্রাসা।  কোথায় তারা এই মাদ্রাসা বানাচ্ছে, তা শুনে আরও একদফা চমকাতে হবে। ‘ ‘দেবভূমি’ বলে পরিচিত হরিদ্বারে হবে এই মাদ্রাসা। ইতিমধ্যেই জমি কেনা হয়ে গিয়েছে।

বহুদিন ধরেই আরএসএস বলছে, তারা দেশজুড়ে মাদ্রাসা বানাবে। এবার তা বাস্তব হচ্ছে উত্তরাখন্ডে। এমনটাই সুত্রের খবর। আরএসএসের মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের রাজ্য প্রধান সীমা জাভেদ এ কথা স্বীকার করেছেন। এটিই হবে সংঘ পরিচালিত প্রথম মাদ্রাসা। জমি কেনা হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই শুরু হবে নির্মাণকাজ।

আরএসএসের দীর্ঘদিনের ভাবনা ছিল তারা মাদ্রাসা বানাবে। যেখানে তাদের মেধাভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হবে। তাদের দাবী, সেখানে ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হবে। শুরুতেই ৫০ জন মুসলিম ছাত্রী শুরু হবে আরএসএস-এর যাত্রার পথ চলা। ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে পাঠক্রম। গোটা দেশে মাদ্রাসার অভাব নেই। তারপরও সংঘকে মাদ্রাসা বানাতে হচ্ছে কেন? এর উত্তর পেতে খুব একটা মাথা চুলকানোর দরকার নেই।

সংঘের নিজেদের হিন্দুত্ব ধারণা চাপিয়ে দিতে চেয়েছে সবার উপর। এ দেশ হিন্দুদের। সংঘ বরাবরই একই রকম। নরেন্দ্র মোদিকে সামনে পেয়ে সংঘ নিজেদের প্রতিফলন করার প্রকাশভঙ্গিতে বদল করল। নরেন্দ্র মোদি স্লোগান দিলেন ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’। কিন্তু তার বাস্তবায়ন দেখতে পেলেন না দলিত ও মুসলিমরা। বরং একটা আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করা হলো সযত্নে।

যাদের মন্দির তৈরির কথা তারা হঠাৎ তালাক নিয়ে মাতামাতি শুরু করলো। গেরুয়া ভোটারদের সংঘ এটা বোঝাতে চেয়েছিল মন্দির করতে না পারলেও তারা মুসলিমদের স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। তা নাহলে তালাক বিল নিয়ে বিজেপির এত মাতামাতি করার কোনো কারণ ছিল না। যেমন মাদ্রাসা নিয়ে মাতামাতিরও কোনো সঙ্গত কারণ নেই। আসলে সংগ চাইছে মুসলিম আলেমদের মধ্য একটা বিভেদ তৈরি করতে। ক্ষমতায় আসার পর এখানে শিয়া ও সুন্নিদের মধ্য ফাটল ধরানোর একটা সচেতন চেষ্টা অনেকেরই নজর এড়ায়নি। মাদ্রাসা নিয়েও তারা তেমনটাই করতে চাইছে। নিজেদের পেটোয়া কিছু লোককে দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে মুসলিমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করা হবে বলে আশঙ্কা আলেমদের। তাদের উদ্দেশ্যে যে সাধু নয়, সে বিষয়ে বুঝতে মুসলিমদের কোনো অসুবিধা নেই। আলেমদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ওদের উদ্দেশ্য মারাত্মক। ওরা ধর্মীয় বিষয়সমূহের অর্ধসত্য ও বিকৃত অনুবাদ প্রকাশ করবে।  তাদের তৈরি মাদ্রাসায় যে তৌহিদ (এক আল্লাহতে বিশ্বাস) আক্রান্ত হবে,সে আশঙ্কা করাই যায়। এমনটাই অভিমত আলেমদের একাংশের।