নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। করোনা ভাইরাস জনিত লকডাউনের কারণে তিন মাস ধরে চলতে থাকা আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায়। যদিও সোশ্যাল সাইটে ওই আইনের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেছে। এখন ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল হলেও করোনা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। কিন্তু এরই মধ্যে সেই থমকে যাওয়া আন্দোলন ফের মাথা তুলছে বলে খবর। জানা গেছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে ফের ধর্নায় বসতে চলেছেন শাহিন বাগের ‘দাদি’রা। আবার একই ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর প্রতিবাদীরা।

CAA

সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, লকডাউনের সময় তাদের বহু নেতাকে গ্রেফতার করেছে সরকার। আর তাই বন্দি মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার, নাগরিক ও ছাত্র সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে।
কিন্তু কেন দেশজুড়ে আন্দোলন?

CAA


যাদবপুর ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন,’ এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে একদিকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ব্যাপক বৃদ্ধি ও তা রুখতে সরকার প্রায় ব্যর্থ, অন্যদিকে লকডাউনের মধ্যে যখন অসংখ্য শ্রমিক অসহায় অবস্থায়, ঠিক সেই সময় দিল্লি পুলিশ ব্যাস্ত সিএএ, এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর ইউএপিএ ও দেশদ্রোহীর মতো উপনিবেশিক আইনের দ্বারা গ্রেফতার করতে। CAA আমরা দেখছি কিভাবে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, জেএনইউ-র ছাত্রদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সরকার টার্গেট করছে যারা আন্দোলন সংগঠিত করেছে তাদের যাতে করে লকডাউন পরবর্তী সময়ে আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে।”

CAA


মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর রাজ্য সহ সভাপতি রঞ্জিত শূর টিডিএন বাংলাকে বলেন,’আন্দোলনটাকে শুধু সিএএ বিরোধী আন্দোলন বলাটা ভুল। এটা আসলে এনআরসি, এনপিআর এবং সিএএ বিরোধী আন্দোলন। দিল্লির শাহিনবাগকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রছাত্রীদের কেন্দ্রের বিজেপি সরকার গ্রেপ্তার করে জেলে পুরছে। CAA অদ্ভুত ব্যাপার এনআরসি এনপিআর সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারীদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে দিল্লি দাঙ্গার কেসে। জেএনইউ, আলিগড়, জামিয়া মিলিয়া ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ছাত্রছাত্রীদের সাজানো অভিযোগে একের পর এক জেলে পোরা হয়েছে।এখনও হচ্ছে। CAA জেএনইউ-র প্রাক্তন ছাত্রনেতা ওমর খালিদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। সময়টাও বেছে নেওয়া হয়েছে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে। যখন গোটা দেশ টানা লকডাউনে বন্ধ। সারা দেশের মানুষ করোনা আতঙ্কে ঘরবন্দি। প্রতিবাদের কোন উপায় নেই। CAA এত ভীত কেন সরকার কে জানে! এন আর সি বিরোধী আন্দোলনকারীদের দাঙ্গার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে অথচ দিল্লি দাঙ্গার মূল উসকানিদাতা ষড়যন্ত্রী বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রদের আজও গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভয়াবহ পরিস্থিতি। গণ আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সন্ত্রাসদমন আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে।দিল্লির একটি ছাত্রীকে ১০দিন ৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংবিধান, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাকে যোগ্য সঙ্গত করছে দিল্লির আম আদমি পার্টির সরকার। এর মধ্যেই রয়েছে ভাল দিক। লকডাউনে নিভে যাওয়া এনআরসি- এনপিআর – সিএএ বিরোধী আন্দোলনের আগুনকে খুচিয়ে দিলেন, ঘি ঢাললেন অমিত শাহ চক্র। ৩ জুন থেকেই নতুন করে শুরু হয়েছে আন্দোলন।”

CAA

রঞ্জিত বাবু আরও বলেন,’মানবাধিকার সংগঠনগুলিও আছে এই আন্দোলনে। ছাত্রছাত্রীদের, গণ আন্দোলনের কর্মীদের অন্যায় গ্রেপ্তারির যোগ্য জবাব পাবে দিল্লির বিজেপি-আপ সরকার। আমরা আশাবাদী। শরজিল ইমামসহ সকল ধৃত আন্দোলনকারির, ছাত্রছাত্রীর, নিঃশর্ত মুক্তি আদায় করে নেবে আন্দোলন। ট্রাম্পের অভিজ্ঞতা দ্রুত শিক্ষা নিক মোদি। নিজের স্বার্থেই।”

CAA

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান টিডিএন বাংলাকে জানান,’যেভাবে নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাতে আন্দোলন স্বাভাবিক।’ তাঁর মতে, বেকারত্ব দূরীকরণ নয়, দিনমজুর বা পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য নয়, নয় বেঁচে থাকার মত নগদ টাকা। মোদি সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠা করা। রামরাজত্ব কায়েম করা। এই দুঃসময়ে নির্লজ্জের মত সেই পথেই হাঁটছে গেরুয়া শিবির এটা দেশের জন্য লজ্জাজনক আর গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদজনক।’

CAA

মানবাধিকার কর্মী আলতাফ আহমেদ বলছেন,”লকডাউন কে সামনে রেখে শাসক দল তাদের কাজগুলো ঠিকঠাক করে নিচ্ছে, যা বেআইনিও বটে। স্বাভাবিক সময়ে যেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংঘটিত হবে, সেগুলো কে এই অকাল সময়, মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে কাজগুলো করে নিচ্ছে! ধিক্কার জানাই সরকারের এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে।”

CAA