বিদায়ী সম্ভাষন উপ-রাষ্ট্রপতির
টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বিদায়ী উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি বলেছেন সহিষ্ণুতা এক আবশ্যক জাতীয় গুণ হওয়া উচিত। গত রবিবার বেঙ্গালুরুতে ন্যাশনাল ল’ স্কুলের ২৫ তম বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি ওই মন্তব্য করেন। খবর পার্সটুডের।
     উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের কাজকর্মের জন্য সহিষ্ণুতা হল বাস্তববাদী নীতি। তিনি বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ভাবনা ছড়িয়ে দিতে সহিষ্ণুতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
    তিনি বলেন, সমাজের প্রত্যেক অংশে বৈচিত্রের মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দকে উন্নীত করতে সহিষ্ণুতা এক অপরিহার্য রাষ্ট্রীয় গুণ হওয়া উচিত।
     হামিদ আনসারি বলেন, কেবলমাত্র সহনশীলতাই একটি বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে পারস্পরিক প্রীতি ও গ্রহণযোগ্যতাও থাকা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বামী বিবেকানন্দকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমাদের ভিতরে শুধু অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখালেই চলবে না, তাদের নিজের করে নিতে হবে। কারণ প্রতিটি ধর্মেরই সার কথা হল সত্য।‘
    তার কথায়, ‘বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ হল ধর্মনিরপেক্ষতার মৌলিক নীতির পুনরাবৃত্তি ও পুনরুজ্জীবিত করা। এতেই সহনশীলতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সহনশীলতা ভারতীয় সমাজের বাস্তবতায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত।’ তিনি দেশে বিশেষকরে দলিত, মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
    তিনি বলেন,  ‘সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ একটি উদার জাতীয়তাবাদের রূপ নয়। এ ধরণের জাতীয়তাবাদ দেশে অসহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের নামে অহংকার ছড়ায়।’ দেশে কার্যত শাসকদলের প্রচ্ছন্ন মদতে চলমান অসহিষ্ণু পরিস্থিতির মধ্যে উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
    হামিদ আনসারির এ ধরণের মন্তব্য বিজেপি ও এনডিএ প্রার্থী এম বেঙ্কইয়া নাইডু নবনির্বাচিত উপ-রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরদিনই এল। উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ আগস্ট।
    সদ্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও অবসর নেয়ার আগে দেশে সহিষ্ণুতার উপরে জোর দিয়েছিলেন। তিনি তার বিদায়ী ভাষণে বহুত্ববাদিতা ও সহিষ্ণুতাই ভারতের অন্তরাত্মা বলে মন্তব্য করেন।
   তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকদিন চারদিকে সহিংসতা বাড়ছে। এই হিংসার মূলে আছে ভয় ও অবিশ্বাস। ভারতের আত্মা থাকে বহুত্ববাদ ও সহিষ্ণুতায়।’ বিভিন্ন মতকে গ্রহণ করতে না পারলে ভাবনার মৌলিক চরিত্রটাই থাকে না বলেও প্রণব বাবু বলেন।