টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশবাসীর বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য দিল্লির কুরসিতে বসছেন নরেন্দ্র মোদি৷ ২০১৪-র পর এবছরও গেরুয়া আবেগে ভর করে জনগণের হৃদয় জয় করেছে বিজেপি৷ সারা দেশে এখনও মোদিময়  আবহাওয়া৷ বিপুল জয়লাভ ও একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ পাওয়াতেই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন৷ কিন্তু মোদির দ্বিতীয়বার আগমনকে বেশ নেতিবাচক চোখে দেখছে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলি৷ তাদের বক্তব্য, ভারতের পক্ষে আগামীতে ভয়াবহ দুর্দিন আসছে৷‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় শিরোনামে দেখা যায় এভাবেই, ‘হাউ নরেন্দ্র মোদি সিডিউসড ইন্ডিয়া উইথ এনভি অ্যান্ড হেট’৷ যার বাংলা করলে দাঁড়ায়, কীভাবে হিংসা ও ঘৃণা দিয়ে ভারতকে বশ করলেন মোদি৷ এর চেয়ে খারাপ অপমান জনক  মন্তব্য বোধ হয় আর কিছু হতে পারেনা৷ যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মোদির বন্ধুসম এবং জয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সেখানে প্রথম সারির মার্কিন সংবাদপত্রের এমন নেতিবাচক বিশ্লেষণে অনেকেই খুব চিন্তিত।‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার সম্পাদকীয় লাইনে একেবারে স্পষ্ট দেখা যায়, ভারতের আত্মার জন্য ক্ষতিকর৷ আরও বলা হয়েছে, ‘বিশ্ব এমন কোনও জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেতাকে চায় না, যিনি সবটা ব্যবসায়িক স্বার্থে নিজের সুবিধার জন্য দেখবেন এবং সংখ্যালঘুদের দেশের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখবেন৷’ লোকসভা নির্বাচনের খবর করতে গিয়ে এই পত্রিকা অধিকাংশটাই আলোকপাত করেছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর দিকে৷ কীভাবে আমেঠিতে গান্ধী পরিবার নিজের গড় হারাল, তা নিয়েই প্রকাশিত হয়েছে তিনটি প্রতিবেদন৷পাকিস্তানের বিখ্যাত ‘ডন’ পত্রিকায় লেখা হয়েছে, ভোটের পর মোদি নিজের মুসলিম-বিরোধী, পাকিস্তান-বিরোধী ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে৷ সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টও কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে অনেকে তুলে ধরেছেন। মোদির জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই৷ বলা হচ্ছে, অর্থনীতির কোনও অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও কেন ভারতবাসীরা মোদিকে ভোট দিলেন৷ তাই, এমনই সব নানা নেতিবাচক মন্তব্য নিয়েই বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলি বিঁধেছে মোদিকে৷ এর বিরোধিতা করে অনেকেই বলছে, দেশের মানুষের রায়কে এভাবে নেতিবাচক সমালোচনার মুখে ফেলে আসলে দেশবাসীকেই অপমান করতে চাইছে ওই বিদেশি পত্রিকাগুলি৷