জামায়াতে ইসলামীর আমীরকে নিয়ে ঘৃণ্য মন্তব্য, বিপদ বুঝে ক্ষমা চাইলেন রিপাবলিক টিভির অর্ণব

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : মক্কা ও মদিনা শরীফ এবং মসজিদুল আকসা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় এবং জামায়াতে ইসলামী হিন্দের আমির মাওলানা জালালউদ্দিন উমরি সন্ত্রাসীদের কমান্ডার আখ্যা দেয়া হয়। এই ধরনের অপমানমূলক মন্তব্য ও ঘৃৃণ্য খবর প্রচার করে অর্ণব গোস্বামীর রিপাবলিক টিভি ও সিএনএন নিউজ ১৮। ১ লা মার্চ এ ধরনের সংবাদ প্রচার হয় এই দুটি চ্যানেলে। খবর দেখার পরে এই টিভি চ্যানেলের মুসলিম দর্শকরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। মুসলিমদের তিনটি পবিত্রতম ধর্মীয় স্থান নিয়ে টিভি চ্যানেলের ঘৃণ্য মন্তব্যে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড সঙ্গে সঙ্গেই টিভি চ্যানেল দুটির কাছে প্রতিবাদ পাঠায়। সেই সঙ্গে বলা হয় অভিলম্বে টিভি চ্যানেলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া হোক। ক্ষমা প্রার্থনা না হলে ক্ষোভের আগুন তীব্র হতে পারে, এই ভেবে আবেদন করা হয় ল বোর্ডের পক্ষ থেকে। কেননা মাওলানা উমরি জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিশ্ববরেণ্য ধর্মীয় নেতা ছাড়াও তিনি পার্সোনাল ল বোর্ডের সহ সভাপতি।

জামায়াতে ইসলামীর আমীরকে নিয়ে ঘৃণ্য মন্তব্য, বিপদ বুঝে  ক্ষমা চাইলেন রিপাবলিক টিভির অর্ণব

রবিবার রিপাবলিক টিভির পক্ষ থেকে মাওলানা জালাল উদ্দিন উমরির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলা হয়, জম্বু কাশ্মীরের জামাতে ইসলামী নিষিদ্ধ ঘোষণার খবরে ভুলক্রমে মাওলানা উমরির ছবি প্রচার হয়। সে কারণে রিপাবলিক টিভি অনুতপ্ত। এই চ্যানেলের পক্ষ থেকে আমরা মাওলানার কাছে ক্ষমা চাইছি। সেই সঙ্গে এই খবরে যারা আহত হয়েছেন তাদের কাছেও ক্ষমা চাইছি। রিপাবলিক টিভি অবশ্য টুইটারে এইধরণের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে।যদিও প্রতিবাদ পত্রে বলা হয়েছিল টিভি চ্যানেল দর্শকদের সামনে এই ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

অপরদিকে সিএনএন নিউজ ১৮ ক্ষমা প্রার্থনা না করে পাল্টা যুক্তি দেখিয়েছে যে মক্কা ও মদিনা শরীফ এবং আল আকসা মসজিদের ছবি তারা জইশ-ঈ-মহম্মদ সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে নিয়েছে। ছবির উপর জইশের জল ছবিও দেখা যাচ্ছে, সে কারণে নিউজ চ্যানেল কোনো ভুল করেনি নিজে থেকে। উল্লেখ্য সিএনএন নিউজ ১৮ চ্যানেল বর্তমানে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের অধীনে। শর্তহীন ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে ইসলাম অবমাননার পক্ষে যুক্তি দেখানোর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরো বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মক্কা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববী এবং বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদকে জইশ-ই-মুহাম্মদ সংগঠনের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য’ করায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন চ্যানেল এর প্রতিক্রিয়ায় অপেক্ষায় ছিল। এবার আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা এই তিনটি মসজিদ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য শুধু ভারতের মানুষদের ক্ষুব্ধ করেনি বরং মুসলিম বিশ্বেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ সেলিম টিডিএন বাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে প্রথমে মিডিয়া হাউজকে বিষয়টি জানিয়েছি। তবে যদি ক্ষমা স্বীকার না করে তবে আইনী পথে যাবে জামায়াতে ইসলামী।’