টিডিএন বাংলা ডেস্ক:  সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে নিয়ে বিজেপির অস্বস্তি কাটতে চাইছে না। মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় তাঁকে মিথ্যা ফাঁসানোর অপরাধেই বেঘোরে মরতে হয়েছে মুম্বইয়ের এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারেকে। শুক্রবার এমন মারাত্মক দাবি করেন বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। স্বাভাবিকভাবে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে গেছেন মালেগাঁও বিস্ফোরণে সন্তান হারানো এক ব্যক্তি। নিসার সৈয়দ নামে ওই ব্যক্তি প্রজ্ঞার প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি করেছেন এনআইএর আদালতে।

প্রশ্ন উঠছে সাধ্বী প্রজ্ঞার ধৃষ্টতা নিয়ে। তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক উৎসবে শামিল। তারপরও নিজের বক্তব্য নিয়ে মাত্রা জ্ঞান নেই! প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। কারণ হেমন্ত কারকারে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এই অবস্থায় সাধ্বী প্রজ্ঞার দাবি অবান্তরই নয়, মাত্রাজ্ঞানহীনও বটে। নানা মহলে এই নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে মোট ৭ অভিযুক্তের মধ্যে প্রজ্ঞার নামও যুক্ত হয়। সাধ্বীর অভিযোগ, মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ এলেও তাঁকে ছাড়তে রাজি হননি তদন্তের নেতৃত্বে থাকা কারকারে। তাঁর দাবি, যেনতেন প্রকারে তাঁকে সন্ত্রাসবাদী সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন কারকারে।

সাধ্বী বলেন, সেই সময় এটিএস প্রধানকে তিনি নাকি অভিশাপ দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ‘তোর সর্বনাশ হবে।’ এর কয়েক দিন পরেই মুম্বইয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় গুলি লেগে নিহত হন হেমন্ত কারকারে। সাধ্বীর দাবি, তাঁর অভিশাপেই এটিএস প্রধানের অকালমৃত্যু ঘটেছিল। কাউকে অভিশাপ দিয়ে মেরেফেলার দৈব ক্ষমতা রাখেন সাধ্বী? এই যুক্তি হাস্যকর নয়, সর্বনাশাও বটে।

বিজেপিতে সদ্য যোগ দেওয়া সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে লোকসভা নির্বাচনে ভোপাল কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে দল। নির্বাচনী ময়দানে তাঁকে লড়তে হবে ঝানু কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে।