বড়ো বড়ো নেতাদের খুঁজে বের করছিলেন বলেই কি আজকের দিনে হেমন্ত কারকারে কে খুন করা হল?

মোহাব্বত সেখ : স্বাধীনতার পর ভারতের সব চেয়ে সাহসী ও সৎ অফিসার ছিলেন হেমন্ত কারকারে।ভারতের মাটি থেকে সন্ত্রাসের আতুর ঘর গুলিকে একটা একটা করে ভাঙতে চেয়েছিলেন তিনি।কিছুটা সফল হলেও,সন্ত্রাসীরা তাঁকে ছাড়েনি।
আতঙ্কবাদের ভয়ঙ্কর শিকার ভারতবর্ষ। এই ভারতে অসংখ্য আতঙ্কবাদী  হামলা সংঘটিত হয়েছে। কেড়ে নিয়েছে অগনিত অসহায় প্রান। আজও আতঙ্কবাদী হামলার ভয়ে সুখ নিদ্রা যেতে পারেনা অনেক ভারতীয়। তাই আতঙ্কবাদকে সমুলে উচ্ছেদ করার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এমনই এক বীর পুরুষ ছিলেন মহারাষ্ট্র অ্যান্টি টেরর স্কোয়াডের প্রধান শহীদ হেমন্ত  কারকারে। মুম্বাই হামলার সময়ে যিনি শহীদ হন। তাঁর এই রহস্য মৃত্যু নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন মহারাষ্ট্র পুলিশের প্রাক্তন আইজি এস এম মুশরিফ। হেমন্ত কারকারের এই রহস্য জনক মৃত্যু নিয়ে তিনি “হু কিল্ড কারকারে?” নামক একটি বই প্রকাশ করেন।  তার এই বই ভারতবর্ষজুড়ে ঘটে চলা সন্ত্রাশী আক্রমনের মুখোশ উন্মোচিত করেছে। তিনি তার প্রসাশনিক কাজের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার মাধ্যমে এবং সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের   ভিত্তিতে ও অনেক প্রমানাদি সহযোগে এটা দেখিয়েছেন যে ২০০৬ সালে মুম্বাই ট্রেন ব্লাষ্ট, ২০০৬ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ, ২০০৮ সালে আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ, ২০০৮ সালে দিল্লী বিস্ফোরণ, সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণ, ২০০৭ সালে মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ, ২০০৭ এ আজমির শরিফ বিস্ফোরণ, ২০০৮ এ জয়পুর বিস্ফোরণ, ২০০৭ এ ইউপিতে সিরিয়াল বিস্ফোরণ, ২০০৬ এ নানদেড়ে বিস্ফোরণ এবং ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ বিস্ফোরন সহ একাধিক মামলার দ্বায়ীত্ত্ব ছিল শহিদ কারকারের উপরে। তিনি নিরপেক্ষভাবে এবং নিপুনভাবে দক্ষতার সহিত এই সমস্ত মামলার তদারকি করছিলেন। তদন্ত করতে গিয়ে তিনি দেখেন কেচ খুড়তে গন্ডুস। তদন্তে উঠে আসে উগ্রপন্থী  হিন্দুত্ববাদীদের নাম। এই সমস্ত অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত আছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি), অভিনব ভারতের লেফটেনেন্ট কর্নেল পুরোহিত, বিশ্বহিন্দু পরিষদের সাধবি প্রজ্ঞা সিং সহ জাগরণ মঞ্চ, আর এস এস এবং সংঘ পরিবারের নাম।
উল্লেখ্য তারা খুব সুচারুভাবে লেফটেনেন্ট কর্নেল পুরোহিত ও তার সহযোগী মেজর উপাধ্যায়ের মাধ্যমের বিস্ফোরক সংগ্রহ করত, এবং কালনানির প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান “ভোসলা মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ট্রেনিং দিয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হত। এই কাজে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করত বিজেপি।লেফটেনেন্ট কর্নেল পুরোহিত ও সাধবি প্রজ্ঞা সিংহের “নারকো টেস্ট” করে এসব তথ্য বার করেন  এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারে।
জনসম্মুখে এদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য যথেষ্ট তথ্য জোগাড় করেন এবং নাসিক কোর্টে এই মর্মে একটি কেস ফাইল করেন।
এতেই ঘুম উড়ে যায় আইবি, বিজেপি এবং এই সব মুখোশধারীদের। তারা মহা বিপদে পড়ে যায় এবং কারকারে কে খতম করার পরিকল্পনা করতে থাকে। অবশেষে এক সুবর্ণ সু্যোগ হাতে আসে। আই বি এবং এফ বি আই এর কাছে খবর আসে লস্করে তৈয়বার একটি দল ‘কুবের’ নামক  জাহাজে করে  সমুদ্র পথে আমেরিকার হেডলির সহযোগে ভারতে আক্রমন করার জন্য আসছে। তখন তারা এই সু্যোগকে কাজে লাগিয়ে হেমন্ত কারকারেকে খতম করার পরকল্পনা আঁকে।
সেইমত তারা পরকল্পনা মাফিক হেমন্ত কারকারে কে খতম করে।
উল্লেখ্য কুবের জাহাজে আজমল কাসভ ছিলনা। গোয়েন্দা রিপোর্টের সূত্র উল্লেখ করে এস এম মুশরিফ এটা পরিস্কার করে উল্লেখ করেছেন তার বই, “হু কিল্ড কারকারে?” এ। এখন ভারতবর্ষ থেকে সন্ত্রাসবাবাদকে খতম করতে হেমন্ত কারকারের রহস্যমৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
#টিডিএন বাংলা