টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ওরা জেলবন্দি। বাইরের আলো বাতাস থেকে অনেক দূরে। জেলের মধ্যেই নিজেরা মাঝেমধ্যে মারামারি করে  খবরের কাগজে এমন ঘটনা প্রায়শই প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু রোযা যেন খুব কাছাকাছি করে দিয়েছে ওদের। হ্যাঁ, দিল্লির বিভিন্ন জেলে মুসলিম বন্দিদের সঙ্গে রোযা রাখছেন হিন্দু বন্দিরাও।

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে তিহার, রোহিনী ও মন্ডলী নামে তিনটি জেল আছে।সম্প্রতি দিল্লি জেল কর্তৃপক্ষ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, মোট ষোলো হাজার ছ’শো পঁয়ষট্টি জন বন্দির মধ্যে দুই হাজার ছ’শো আটান্ন জন রোযা করেছেন এবার। শুধু তাই নয় মুসলিম ছাড়াও তেতাল্লিশ জন হিন্দু বন্দিও রোযা রাখছেন প্রত্যহ।একত্রিশ জন মহিলা সহ বারোজন হিন্দু যুবক এবারের রমযানে রোযা রাখছেন বলে জেল সূত্রে খবর।

যেসব হিন্দু বন্দি এবার রোযা করছেন তারা জানাচ্ছেন, আমরা রোযার কষ্ট মুসলিম ভাইদের সাথে ভাগ করে নিতে ভ্রাতৃত্ববোধকে সুদৃঢ় করতে রোযা করছি। রোযার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি হোক ও জীবনে নতুন করে বাঁচতে চান তারা বলেও জানাচ্ছেন বন্দিরা। এদিকে যারা রোযা রাখছেন, তাদের খাওয়ার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে জেল কর্তৃপক্ষের তরফে।প্রত্যেক রোযাদারের জন্য সেহেরির সময় ক্যান্টিন খোলা রাখছে, এমনকী ইফতারের সময় বন্দিরা যেন নিজেদের মতো ইফতারসামগ্রী কিনে খেতে পারে তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল ও রুহ আফজার জোগানও রাখছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, বন্দিরা যেন রোযা রাখা থেকে নামাজ পড়া ভালোভাবে করতে পারে তার সব বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে বন্দিদের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থাপনা থাকছেই।