টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বৃহস্পতিবারই শেষ তুলির টানে সাঙ্গ হলো বৌদ্ধ মূর্তি অঙ্কিত ১২৫ কেজি ওজনের সাবান প্রস্তুতির। আর এই সাবান দিয়েই উত্তর প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রীর সংকীর্ণ জাতপাতের কালো কুৎসিত চিন্তাভাবনাকে মেজেঘষে পরিষ্কার করে দিতে অনুরোধ করবেন সে রাজ্যের দলিত ভাইবোনেরা।
দলিতদের একটি সংগঠন ড: আম্বেদকর বেচনা প্রতিবান্ধ সমিতি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বর্ণবিদ্বেষী যোগী আদিত্যনাথেকে ১৬.৫ ফুট দীর্ঘ একটি সাবান দেবেন যা উত্তরপ্রদেশের ১৬.৫ % জনসংখ্যার প্রতীক।
কিন্তু পরে ১২৫ কেজি সাবান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এই সমিতি। কিন্তু কেন এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত ?
সংগঠনটির সদস্য মার্টিন ম্যাকবান জানান তারা দলিতদের মহান নেতা ড: আম্বেদকারের ১২৫তম জন্মদিনকে এভাবেই স্মরণীয় করে রাখতে চান। আর সে জন্যই প্রতিবাদের এই অভিনব পন্থাকে বেছে নিয়েছেন তারা ।
উল্লেখ্য, স্বাধীন ভারতের সংবিধানের রুপকার আমিবেদকর বার বার অনুভব করেন যে -ভারত স্বাধীন হওয়ার পরও আর একটি স্বাধিনতার প্রোয়োজন ছিল। বর্ণবাদী ব্রাহ্মণদের অত্যাচার ও বর্ণবিভদে- ক্লিষ্ট দলিত হিন্দুদেরকে আর একবার পরাধিনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার প্রয়োজন ছিল। আর সেই অনিবার্য কারণেই স্বাধিন ভারতের সংবিধানের রুপকার ১৪ই অক্টোবার ১৯৫৬ সালে প্রায় তিন লক্ষ ছাপ্পান্নহাজার অনুগামিদেরকে নিয়ে জাতপাত হীন বৌদ্ধ ধর্মে দিক্ষীত হন। দলিতদের আজকের প্রতিবাদের ভাষায় সেই চিত্রই অন্তর্নিহিত রয়ে গেল।
সাবানটিতে অঙ্কিত গৌতম বুদ্ধের মূর্তিটিও খুবই অর্থবহ। আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে জাত-পাতের অন্ধকারে আকন্ঠ নিমজ্জিত, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বহু দলিতবৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে পরিত্রাণের পথ খুঁজে নিয়েছিল। ধুলোমলিন ইতিহাসের সেই পাতাকে আবার স্মরণ করিয়ে দিতেই সাবানের উপর বুদ্ধদেবের দেহ অবয়ব অঙ্কিত করা হয়েছে।
সাবানটি তৈরী করতে মোট খরচ পড়েছে ৩২০০ টাকা। সারা রাজ্য থেকে দলীত মা বোনেদের কষ্টার্জিত অর্থের বা চাঁদার মাধ্যমে গড়া তহবিল থেকেই এই সাবানটি তৈরী করা হয়েছে। সাবানটির নকশা করেন MICA এর দুই প্রফেসর – প্রবীণ মিশ্র ও সুমন কাউর।
ম্যাগসেসাই পুরস্কার বিজয়ী ম্যাকাবান সাংবাদিকদের কে জানান সাবানটিকে তারা সবরমতি এক্সপ্রেসে চাপিয়ে লখনউ-এ দলিত ভায়েদের একটি দলের হাতে তুলে দেবেন । তারা সাবানটি ১৬ জুনের পর যেগী আদিত্যনাথের হাতে তুলে দেবেন।
সমিতিটি বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন দলিত এমপি ও এমএলএ এর হাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দলিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ স্মারকলিপি পাঠাচ্ছেন এবং প্রশ্ন করেছেন সাহারানপুর সহ বিভিন্ন স্হানে ঘটে চলা দলিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা নিরব কেন।⁠⁠⁠⁠