ছবি-প্রতীকী

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচন শেষ না হতে হতেই অসমে ফের বিদেশির নামে সন্দেহও বশত ধরপাকড়,নোটিশ জারি এবং ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকের ঘটনা শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সংগঠন।

গত সোমবার বরাকের ধলাইয়ে দিপালী দাস(স্বামী অভিমুন্য দাস) নামে এক মধ্যবয়স্ক মহিলাকে বিদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করে শিলচর ডিটেনশন ক্যাম্পে আবদ্ধ করা হয়েছে বলে খবর। এমনকি এই মহিলাকে মিথ্যা কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে সরাসরি ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণ পরিষদের সভাপতি  ডাঃ অভিজিৎ  চক্রবর্তী বলেন, এর থেকেই প্রমান হয় বিজেপি সরকার হিন্দু বাঙালিদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।বিজেপির এই বিশ্বাসঘাতকতার কথাটিই আমরা নির্বাচনের সময় এবং তার আগে রাজ্যের বাঙালি মানুষদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। এবার তার চাক্ষুস প্রমান মিলল।

আসামের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলা পক্ষ সংগঠনের নেতা অধ্যাপক গর্গ চ্যাটার্জি টিডিএন বাংলাকে  বলেন,’আসামে বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী বিজেপি ও তার দোসর অসমীয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাদের ঘৃণ্য কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। আসামে ভোট মিটতেই শুরু হয়েছে ধরপাকড়। শুরু হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকানোর পালা। এমনকি মুসলিম সাম্প্রদায়িক শক্তির অত্যাচারে, ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু বাঙালিদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে গত সপ্তাহে। অত্যাচারের সামনে পড়ছে আসামের সব বাঙালি, হিন্দু এবং মুসলমান। সম্প্রতি সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে কুখ্যাত বাঙালি বিরোধী বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যখন সে প্রকাশ্য জনসভায় বলে যে তার “ধুতি-লুঙ্গির” ভোট লাগবে না। এটা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে সব বাঙালির এক হবার সময় – বিজেপির বিরুদ্ধে, হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, বাঙালি বিদ্বেষী সব শক্তির বিরুদ্ধে। আসলে বাংলা ও বাঙালির শত্রুরা ভেবেছে যে বাঙালিকে এক তরফা আক্রমণ করে গেলেও বাঙালি হিন্দু মুসলমান ভাগ হয়ে নিজেদের মধ্যে আকচাআকচি করবে কিন্তু শত্রুকে প্রতিরোধ করবে না।  কিন্তু এখন সময় অন্য। বাংলা পক্ষ পথে আছে, লড়াইয়ে আছে, আছে আসাম জুড়ে নানা সংগঠন।  এবার আর আসামের বাঙালি একা নেই। সব বাঙালি এক হচ্ছে। সামনের দিন বাঙালি বিরোধীদের জন্য ত্রাসের মোট হবে যদি বাঙালির উপর অত্যাচার বন্ধ না হয়। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাড়ির তেল, নুন, পেঁয়াজ – সব যায় বাংলার উপর দিয়ে।  সেটা যেন সে না ভোলে।’

অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া নম:শূদ্র বিকাশ পরিষদের সভাপতি মুকুল চন্দ্র বৈরাগ্য এই প্রতিবেদককে বলেন,’২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় আসামে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষনা করেছিলেন ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিটেনশন ক্যাম্প ভেঙে দিয়ে সমস্ত হিন্দুদের মুক্ত করে দেবেন। ক্ষমতায় এলেন ঠিকই কিন্তু করলেন উল্টোটা। ডিটেনশন ক্যাম্প ভাঙার বদলে এনআরসি-র নামে ৪০ লক্ষ লোককে বেনাগরিক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকানোর ব্যবস্থা করলেন। এবারেও ঠিক একই কায়দায় ভূয়া সিটিজেনশিপ বিলের ধুয়ো তুলে ভোট ময়দানে নেমে বললেন ওপার বাংলা থেকে আগত হিন্দুদের কোন বিপদ নেই। অথচ এই সিটিজেনশিপ বিলে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা লেখাই নেই বরং যারা নাগরিক আছেন তাদেরকে বিদেশি ঘোষনার রাস্তা তৈরি হয়ছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসামের হিন্দুদের ভোট নেওয়ার পরেই আবার গ্রেফতার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রেরণ করা হচ্ছে। এ বাংলায় এনআরসি চালু হলে কমপক্ষে ৪ কোটি মানুষ বিপদে পড়বেন। বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই ঘৃণ্য চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।’