টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সনু নিগমের আযান বিতর্কের পর এবার পাঠ্যবইয়ে আযান নিয়ে শুরু হল বিতর্ক। একটি উত্তেজনাপূর্ণ ক্রমবৃদ্ধিতে, আই.সি.এস.ই বোর্ডের ষষ্ঠশ্রেণীর একটি পাঠ্যপুস্তক শব্দ দূষণ সৃষ্টির জন্য মসজিদ এবং আযানকে দায়ী করেছে।
সেলিনা পাবলিশার্স প্রকাশিত বইয়ের শব্দ দূষণের একটি অধ্যায়-এ শব্দ দূষণের উৎস ও কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড বিজ্ঞান অধ্যায়-এ প্রকাশিত শব্দ দূষণের উৎস হিসাবে ট্রেন, গাড়ি, প্লেন এবং মসজিদ-এর ছবি দেখায়। ছবিটিতে
আরও একটি লোক আছে, যে একটি মসজিদের সামনে তার কান বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০২ নম্বর পৃষ্ঠার ১৩ নম্বর অনুশীলনের ছবিটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা এটা ছড়িয়ে দিয়ে আই.সি.এস.ই-এর বোর্ডকে তার পাঠ্যবইগুলির মাধ্যমে ইসলামবিরোধী এজেন্ডা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে।
জনসাধারনের নেতিবাচক চাপের সম্মুখীন হয়ে মালিক হেমন্ত গুপ্ত তার এই “ভুলের” জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, পরবর্তী সংস্করণে এটিকে সংশোধন করা হবে। তবে, স্কুলে সার্কুলেটেড হাজার হাজার বই প্রত্যাহারের কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি।
সুশীল সমাজের সদস্যরা ইসলামের বিষয়ে আপত্তিকর বিষয় নিয়ে এখন একটি অনলাইন পিটিশন চালু করে বইটির প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
অল ইন্ডিয়া তানজিম-ই-ইনসাফের সদস্য উবাইদ হোসেন অভিযোগের জবাবে গুপ্ত লিখেছেন, “আমি আমাদের বই ‘ইন্টিগ্রেটেড সায়েন্স ফর ক্লাস সিক্স-এ দেওয়া ছবির বিষয়ে আপনার আপত্তি তুলে ধরার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।”
সেলিনা পাবলিশার্সের লেটারহেডে জারি করা ক্ষমা পত্রের উপর গুপ্ত লিখেন, “আমাদের প্রকাশনা- ইন্টিগ্রেটেড সায়েন্স ফর ক্লাস সিক্স-এর ২০২ নম্বর পৃষ্ঠার ছবিতে একটি ঢিলেঢালা নগরের দুর্গ এবং অন্যান্য শব্দ উৎপাদনের বস্তুর অনুরূপ একটি কাঠামো রয়েছে। যদি এটা কারো অনুভূতি আঘাত করে তবে আমরা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। সংশ্লিষ্টদের জানানো যাচ্ছে যে আমরা বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে ছবিটি পরিবর্তন করব।”
উল্লেখ্য, বলিউড গায়ক সনু নিগম এই বছরের এপ্রিল তিনি অযৌক্তিকভাবে আযানকে শব্দ দূষণের কারণ বলে দায়ী করলে
এক বিশাল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে অনেকে টুইটারে তাকে বিজেপি ও আরএসএসের নির্দেশে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডাকে বর্ধিত করার অভিযোগ করে।

(তথ্যসূত্র : টুসারকেল.নেট)