টিডিএন বাংলা ডেস্ক: এভাবে যদি পরিযায়ী শ্রমিক ও কর্মীরা খাবার না পেতে থাকে তাহলে অবিলম্বে ‘ খাদ্য দাঙ্গা ’ বেধে যেতে পারে। এমনটাই আশঙ্কাপ্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্য পরিসংখ্যানবিদ তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রণব সেন। দেশজুড়ে এই লকডাউনের সময়ে উপার্জন হারানো এইসব পরিযায়ী শ্রমিকের মুখে খাবার তুলে না দেওয়া যায় তাহলে দেশে ‘ খাদ্য দাঙ্গা ’ বেধে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিক যেমনটা অতীতে দুর্ভিক্ষের সময় হয়েছিল।

নিউজ পোর্টাল ‘ দ্য ওয়্যারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রণববাবু বলেন, যদি গ্রামীণ এলাকাগুলিতেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে যায়, সেক্ষত্রে তা সংবরণ করা রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়বে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা। মূলত দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো বড়বড় বাণিজ্যিক শহরে নির্মাণকাজ করার জন্য এসেছিলেন এই শ্রমিকরা। লকডাউনের কবলে পড়ে হারিয়েছে রুটিরুজি। বাধ্য হয়েই ঘরে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। কোনও যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল না করায় দু’দিন-তিনদিন ধরে হেঁটেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। দোকান বাজার বন্ধ থাকায় কার্যত অনাহারেই হেঁটে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

প্রণববাবুর কথায়, ‘ সমস্যা হচ্ছে যদি পরিযায়ী শ্রমিকরা সহজে খাবার না পায়। সেক্ষেত্রে খাদ্যদাঙ্গা বেধে যেতে পারে। দেশে আমাদের এই ধরনের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন যদি সহজে খাবার পৌঁছে দিতে না পারি তাহলে আবার খাদ্য-দাঙ্গা বেধে যেতে পারে। খাবারের জোগান ব্যবস্থা যদি স্বাভাবিক না হয়, রুটিরুজি চলে গেছে এমন শ্রমিকদের খাদ্যের চাহিদা যদি পূরণ না হয় সেক্ষেত্রে খাদ্য-দাঙ্গা বেধে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, যেভাবে একসঙ্গে প্রচুর সংখ্যক মানুষ খাবারের জন্য আসছেন। ঠিক যেমন কারফিউয়ের সময় হয়। তেমনই ২-৩ ঘণ্টার জন্য দোকান খোলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একসঙ্গে বহু মানুষের রান্না করতে গিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কাও রয়েছে। (সৌজন্য- পুবের কলম)