টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টে বৃহস্পতিবার থেকে তিন তালাক ইস্যুতে শুনানি শুরু হয়েছে। ১০ দিন ধরে এ সংক্রান্ত শুনানি চলবে। গত কাল (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বে ক্যুরিয়েন জোসেফ, আইএফ নারিম্যান, ইউ ইউ ললিত এবং আব্দুল নাজিরের সমন্বিত গঠিত বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর বলেন, বিষয়টিকে তিনটি মূল কথায় বোঝাতে চাচ্ছি। প্রথমত, তিন তালাক ইসলামের অবিচ্ছেদ্য বিষয় কি না, যদি মৌলিক ও অবিচ্ছেদ্য বিষয় হয়, তবে দেখতে হবে, সেখানে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি কি না। দ্বিতীয়ত, এই প্রথা ধর্মীয় সংস্কারমূলক কি না। তৃতীয়ত, কোনো প্রয়োগযোগ্য মৌলিক অধিকার এই প্রথার ফলে লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না।


আদালত আজ সাফ জানায়- তিন তালাকের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় মুসলিমদের মধ্যে বহুবিবাহের ইস্যুটি পরীক্ষা করে দেখা হবে না। সিনিয়র আইনজীবী সালমান খুরশিদসহ কেন্দ্রীয় সরকার এবং মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রখ্যাত আইনজীবী সালমান খুরশিদকে তিন তালাক মামলায় এমিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয়েছে।
সালমান খুরশিদ আদালতকে বলেন, ‘তিন তালাক’ কোনো বিষয়ই নয় কারণ তালাকের আগে স্বামী-স্ত্রী মীমাংসার চেষ্টা করা প্রয়োজন। যদি সমন্বয়ের চেষ্টা করা না হয় তাহলে তালাক বৈধ বিবেচিত হতে পারে না। একবারে তিন তালাক নয়, বরং এই প্রক্রিয়া তিন মাসে হয়।
মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের আইনজীবী কপিল সিব্বল আইনজীবী সালমান খুরশিদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, তিন তালাক কোনো বিষয় নয়।
আদালত জানতে চান পার্সোনাল ল’ কী ? এটা কি শরিয়াহ, না এর অর্থ অন্য কিছু ?
কপিল সিব্বল বলেন, এটা পার্সোনাল ল’য়ের বিষয়। সরকার তো আইন তৈরি করতে পারে কিন্তু আদালতের এতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
বিচারপতি ক্যুরিয়েন বিষয়টি মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না জানতে চান।
আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে এএসজি পিঙ্কি আনন্দ বলেন, তিন তালাক অসাংবিধানিক এবং অনেক দেশ থেকে তা তুলে দেয়া হয়েছে।
আদালত সাফ জানায়, যদি আমাদের মনে হয় তিন তালাক ধর্মের অংশ তাহলে আমরা তাতে হস্তক্ষেপ করব না।
উল্লেখ্য, ‘তিন তালাক, নিকাহ হালালা মুসলিম নারীদের সমানাধিকার, মর্যাদা সহকারে বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী এবং সংবিধানের ২৫(১) অনুচ্ছেদে নিজস্ব ধর্মাচরণ, ধর্মপ্রচারের যে অধিকার সুরক্ষিত আছে, তার মধ্যে পড়ে না’। এই দাবিতে পিটিশনের ভিত্তিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ শুনানি শুরু হয়েছে। তিন তালাক ইস্যুতে ভারতের আদালতে মোট ৬টি আবেদন জমা পড়েছে।