টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশ যখন ভুগছে করোনা ভাইরাসে, তখন মুসলিমবিদ্বেষী ভাইরাস যেন দেশে প্রকট হয়ে উঠেছে। করোনা কে নিয়ে এক শ্রেণীর মিডিয়া লাগাতারভাবে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়েই চলেছে। বিজেপি শাসিত গুজরাটে নরেন্দ্র মোদীর শাসনে ২০০২ সালের দাঙ্গার ক্ষত এখনও শুকোয়নি। ফের মুসলিমদের উপর নির্যাতন শুরু করেছে বিজেপি শাসিত গুজরাট। ইফতারের থালায় লাঠি, কুরআনের হাফিজ সহ নামাজরত মুসল্লিদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেল পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের আমেদাবাদের শাহপুর একটি মুসলিম প্রধান এলাকায়। সেই এলাকাটি করোনা সংক্রমণের জন্য কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত৷

৮ মে শাহপুর পুলিশ সেখানকার স্থানীয় মানুষদের হেনস্থা করে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ লকডাউন রক্ষা করতে গিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ তবে বারবার মুসলিমরাই কেন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ এর পিছনে শুধু যে লকডাউন নেই, আছে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, তাই মনে করছে ওয়াকিফহাল মহল৷

শাহপুরের এক বাসিন্দা জুনায়েদ জানাচ্ছেন, পুলিশ চরম পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নির্দোষ মানুষদের গ্রেফতার করছে৷ পুলিশ এসে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে তল্লাশি করছে৷ মহিলারা এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন৷ সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে ভীত-সন্ত্রস্ত ভাব৷ ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ৫৯ বছরের রাজিয়া বানু জানাচ্ছেন, পুলিশ কাউকে ইফতার করতে দেয়নি৷ একটু পানিও পান করতে দেয়নি৷ রমযান মাসে মানুষ বিশ্রাম নেয় বা ঘুমোয়৷

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ মহিলাদের মারধর করে৷ এমনকি বয়স্ক মানুষ ও শিশুরাও পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি৷ ঘটনার পরে পুলিশই উলটে ২৮ জনকে গ্রেফতার করে৷ এর মধ্যে ৬২ বছর বয়সের এক বৃদ্ধও রয়েছেন৷ তিনি একা পায়ে হেঁটে বাইরে বেরোতে পর্যন্ত পারেন না৷ তিনি কীভাবে লকডাউন ভাঙলেন, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন৷

পুলিশ যে কোনও সময় এসে তল্লাশি শুরু করছে৷ জিজ্ঞাসাবাদ করছে৷ ১২ বছরের এক অবুঝ বালককে ওরা প্রত্যক্ষদর্শী বানিয়ে মানুষজনকে গ্রেফতার করছে৷ ছেলেটি কিছু জানে না বললে তাকে পুলিশ শাসাচ্ছে বলে রাজিয়া জানাচ্ছেন৷ শেখ করিম মিয়ার ছেলের পা সার্জারী করা হয়েছে৷ তা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে পিটিয়েছে৷ তার পায়ে প্লেট ছিল৷ এই তথ্য জানালে পুলিশ আরও বেশি করে তাকে মারধর করে বলে করিম মিয়া জানাচ্ছেন৷

পুলিশ সূত্র অনুসারে, হিংসার ঘটনাটি ঘটে যখন দুই ব্যক্তি লকডাউন চলাকালীন বাড়ির বাইরে বসে ছিলেন৷ পুলিশ ওই এলাকায় টহল দেবার সময় তাদেরকে বাড়ির ভেতরে যেতে বলে৷ পুলিশের অভিযোগ, এরপরই উত্তেজিত জনতা সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে৷ তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে৷

শাহপুরের আরেক বাসিন্দা ফারজানা বানু জানাচ্ছেন, তার পুত্র যখন নামাজ পড়ছিল তখন ৭-৮ জন পুলিশ দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পড়ে৷ দু-তিন জন পুলিশের পোশাক পরে ছিল, বাকিরা সাদা পোশাকে ছিল৷ তারা ফারজানাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং প্রস্তুত করা ইফতার সামগ্রী লাথি মেরে ছুড়ে ফেলে৷ জায়নামাযে বুট পড়ে উঠে পড়ে এবং তার পুত্রকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়৷ পুত্র একজন কুরআনের হাফিজ৷ তার স্বামীকেও পুলিশ তুলে নিয়ে যায়৷ সেদিন ইফতার করার জন্য তার কাছে আর কিছুই ছিল না বলে জানাচ্ছেন ফারজানা৷