টিডিএন বাংলা ডেস্ক : কোবরাপোস্ট ওয়েবসাইটের একটি তদন্তে ভারতীয় বিনোদন ৩৬ জন সেলিব্রিটির নাম প্রকাশিত করেছে, যারা ২০১৯ সালের নির্বাচনে একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করার জন্য রাজী হয়েছে।তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিতে অর্থের জন্য অনূকূল বার্তা পোস্ট করে রাজনৈতিক দলগুলির হয়ে প্রচার করার জন্য সম্মত হয়েছে।

এই সেলিব্রিটির মধ্যে টিভি এবং চলচ্চিত্র, গায়ক, সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রিটি এবং স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান অভিনেতাদের অন্তর্ভুক্ত। অভিনেতাদের মধ্যে সানি লিওন, বিবেক ওবরই, জ্যাকি শরফ, তিসকা চোপড়া, শক্তি কাপুর, সনু সুদ, শ্রায়াস তালপাদ, আমিশা প্যাটেল, মহিমা চৌধুরী, পুনিত ইশার, সুরেন্দ্র পাল, পঙ্কজ ধীর ও তার ছেলে নিকিতিন ধীর, দীপশিকা নাগপাল, আখিলেন্দ্র মিশ্র, রোহিত রায়, রাহুল ভাট, সেলিম জাইদী, রাখী সাওয়ান্ত, আমান বার্মা, হিতেন তেজওয়ানি ও তার স্ত্রী গৌরী প্রধাম, ইভলিন শর্মা, মিনিশা লাম্বা ও কোয়েনা মিত্র।

অন্যান্য সেলিব্রিটি এবং গায়কদের মধ্যে ছিলেন পুনাম পান্ডে, অভিজিৎ ভট্টাচার্য, কৈলাশ খের, মিলকা সিং ও বাবা সেহগল। রাজু শ্রীবাস্তব, সুনিল পাল, রাজপাল যাদব, উপসানা সিং, কৃষ্ণ অভিষেক ও বিজয় ঈশ্বরলাল সহ কিছু বিখ্যাত কমেডিয়ান ছিলেন, যারা টাকার বদলে ক্যামেরার সামনে রাজনৈতিক দলের প্রোমোট করার জন্য রাজী হয়েছিলেন। কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য এবং বিগ বিগ বসের প্রতিযোগী সম্ভভন শেঠও ক্যামরায় ধরা পড়েন যে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের ক্যাম্পেনে সাহায্য করার জন্য অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ করে।

কোবরাপোস্টের সাংবাদিকরা এই সেলিব্রেটিদের কাছে একটি অস্তিত্বহীন পিআর সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে এবং জাল নাম ব্যবহার করে উপস্থিত ছিলেন। তারা এই সেলিব্রিটিদের সাথে একটি সাধারণ প্রশ্ন দিয়ে যোগাযোগ করেছিল, “আপনি কি টুইটার, ফেসবুক এবং ইনস্টগ্রামে বিজ্ঞতার সাথে রাজনৈতিক দলের প্রচারের জন্য আগ্রহী হবেন?” প্রায় বেশিরভাগ সেলিব্রিটিদের যথাযথ উত্তর পাওয়া গিয়েছে যতক্ষণ না ফি সঠিক ছিল।তাদের সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে বার্তাগুলি পোস্ট করার জন্য সম্মত হন। ক্যামেরাতে দেখা যায় যে অর্থের বিনিময়ে মূলত কোনও অপরাধ সংঘটিত করার জন্য তাদের কোন দ্বিধা নেই। তাদের অধিকাংশই নগদ অর্থ গ্রহণ করতে রাজি ছিল, যা অন্য কথায় কালো টাকা।

পর্ণ স্টার সানি লিওন কোবরাপস্ট সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার তার স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবারকে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন স্টাটাস দিলে সে ক্ষেত্রে বিজেপির সমর্থন দেবে।
তিনি বলেন, “মোদি স্যার ন্যে ড্যানিয়েল ক্যো ওভারসিজ সিটিজেন বানায়্যে তো হাম জারুর সমর্থন কারেঙ্গে।
ফেসবুকে সানির ২৩ মিলিয়ন অনুসারী , টুইটারে 4 মিলিয়নের কাছাকাছি এবং ইনস্টগ্রামে 19 মিলিয়ন অনুসারী। এক কোবরাপোস্ট প্রতিবেদকের মতে, সানি তার সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ব্যবহার করে বিজেপির এজেন্ডা প্রচার করতে ৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন।

বিজেপির এজেন্ডাকে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বুদ্ধিদীপ্তভাবে সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য শক্তি কাপুর টাকা নিতে কোনো দ্বিধা ছিল। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিজেপি তাকে উত্তরাখণ্ডের তারকা প্রচারক বানিয়েছিল, যখন তিনি ও মোদি একই পর্যায়ে জনসাধারণের সামনে বক্তৃতা দেন।

গায়ক মিলকা সিং বলেন, “কেন আসামে এনআরসি নিয়ে ছোট টুইট করবেন না? মিলকা সাহায্য করতে ইচ্ছুক “সাহি বাত… ম্যে চাহতা হুন কি আপ মুজহে উসকা কনটেন্ট ভেজ দো, ম্যে উসকো হালকা-ফুলকা এডিট কার দুংঙ্গা”

প্রাক্তন বলিউড গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য, প্রস্তাব করেছেন যে তিনি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিজেপির প্রচারের জন্য ভিডিও তৈরির জন্য তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, “এটা ন্যাচারাল দেখতে হওয়া উচিত। ধরুন, আমি একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে আছি এবং আমার গাড়িতে বসে বা কফি শপে চা খাওয়ার সময় কিছু বলছি … হ্যাঁ [এটি দেখতে স্বাভাবিক]। “