টিডিএন বাংলা ডেস্ক: চৌদ্দটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে দশটিতে প্রার্থী দেয়নি সংখ্যালঘু দল। বদরুদ্দিন অজমহলের সেই কৌশলী সিদ্ধান্তে প্রথমদিকে কেঁপে উঠছিল বিজেপির অন্দর। কিন্তু অটল, নিশ্চল ছিলেন হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। কারণ, তিনি জানতেন একত্রিত হিন্দ ভোটের জোরে সম্মিলিত মুসলিম শক্তির মোকাবিলা করা সম্ভব। মুসলিম ভোটের পুরোটা কংগ্রেসের দিকে গেলেও জয়ী হওয়া যাবে কিন্তু যদি হিন্দুরা একত্রিত হন।তাই দলকে পরামর্শ দেন, জাতি বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দুরা যাতে গেরুয়া পতাকার নীচে একত্রিত হন, সেই চেষ্টা করতে হবে। হেমন্তের সেই ধর্মীয় মেরুকরণের প্রয়াস লাগিয়েছে, গেরুয়াময় হয়ে পড়েছে গোটা অসম। ১৪ কেন্দ্রে ভোট-যুদ্ধের শেষে বিজেপির পক্ষে ভোটের ফল ৯, কংগ্রেস ৩, এআইইউডিএফ ১, নির্দল ১।২৩ মে বৃহস্পতিবার বারবেলার পর থেকে অসমের এক রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। এত দিন ধরে জয়ের জন্য মুসলিম ভোটের বিভাজনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো গেরুয়া দলকে। কিন্তু হিন্দুরা একত্রিত হতে পারলে মুসলিম ভোটের তোয়াক্কা না করেই যে জয়ী হওয়া যায়, সেই নতুন ধারাটা অসমে আজ থেকে প্রবর্তন করেছে বিজেপি। সেই নতুন সমীকরণের জোরে শিলচর, করিমগঞ্জ,মঙ্গলদৈ, তেজপুর, গুহাটিতে,যে অভাবনীয় ফল হয়েছে বিজেপির, তাতে ভবিষ্যতের জন্য চিন্তায় থাকতে হবে কংগ্রেস,এআইইউডিএফের মতো বিরোধী শিবিরকে। কিন্তু এরপরও অবশ্য বিজেপির পক্ষে সম্ভব হয়নি নগাঁও, কলিয়াবর আসন দখলে আনা। মধ্যে অসমমের সেই দুটি কেন্দ্রে চূড়ান্তভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম ভোটের জোরে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস।ঠিক একইভাবে নাগরিকত্ব বিল-বিরোধী আন্দোলনের উত্তাপে গোটা অসম যখন জ্বলছে, তখনও চাপে পড়ে গিয়েছিল শাসক দল। ভোট ধরে রাখার তাগিদে উজান অসমের বিধায়করাও তখন কিছুটা বিলের বিরুদ্ধে সুর ধরেছিলেন। কিন্তু অটল, নিশ্চল ছিলেন হেমন্তবিশ্ব শর্মা।  কারণ, তিনি জানতেন হিন্দু কার্ড সামনে নিয়ে বিল-বিরোধী আন্দোলন উড়ে যাবে। তাই শুরু করে দেন অসমে মুসলিম আগ্রাসনের জুজু দেখাতে। চরম বিল-বিরোধীতা দেখে প্রাথমিকভাবে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন অসমীয়া সমাজে ‘জাতীয় নায়ক’ বলে পরিচিত মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সেনোয়ালও । কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিলের পক্ষে দাঁড়িয়ে হেমন্তের হিন্দু কোরাসে যোগ দেন তিনিও। ২৩ মে সন্ধেহ হেমন্তের সেই প্রয়াসের সেই ফল সকলের চোখের সামনে।অথচ বিল-বিরোধিতাকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে ত্রুটি রাখেনি কংগ্রেস। জাতীয়তাবাদী শিবির থেকে বরাংবার সাংবাদিক বৈঠক করে, লিফলেট বিতরণ করে, সংবাদপত্রে জোর করে প্রবন্ধ লিখে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, নাগরিত্ব বিল পাস করানোর চেস্টা করে বিজেপি অসমিয়া জনগণের কতটা ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। জাতির অস্তিত্ব, ভাষা সংস্কৃতি ধংস করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাম ধারার বুদ্ধিজীবী ও জাতীয়তাবাদী শিবিরকে অবাক করার ফল দেখিয়েছে বর্ন অধ্যুষিত উজান অসম। উজানের সব কেন্দ্র- লখিমপুর থেকে ডিব্রুগড়, জোরহাট, উত্তর অসমের তেজপুর, নিন্ন অসমের মঙ্গলদৈ, দুই পাহাড়ি জেলার ডিফুটে একাধিপত্য দেখিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।আর উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য যারা লড়ছে, বরাকের হিন্দুরা শিলচর ও করিমগঞ্জ কেন্দ্র সেই দলকে উপহার দিয়েছেন। না হলে যে অকৃতজ্ঞ প্রকাশ করা হয়। তাই কম ভোটের ব্যাবধান হলেও দুই দশকের বেশি সময় পর করিমগঞ্জ কেন্দ্র ফের বিজেপির দখলে এসেছে। শুধু কংগ্রেসের পক্ষে মুসলিম ভোটের প্রবল ঢেউ ঠেকিয়ে সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টায় হিন্দুরা সিলচরেও জয়ী করিয়েছেন বিজেপিকে। অথচ কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই যেখান পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ছিল বিজেপির কাছে। তাই ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর প্রত্যয়ী হেমন্তবিশ্ব শর্মা বলেছেন, ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ লড়ায়ে এখন বিজেপি জয়ী হয়। কারণ, আমরা পঞ্চাশ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে এখন। তাই কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ এখন বাকি পঞ্চাশ।
সূত্রঃ যুগশঙ্খ