টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গত ছ ‘ বছরে ২৮৩৮ পাকিস্তানি , ৯১৪ আফগান , ১৭২ বাংলাদেশি শরণার্থী ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন , তাতে রয়েছেন মুসলিমও। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ( সিএএ ) যে মুসলিম – বিরোধী বা নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার অস্ত্র নয়, তা বোঝাতে গিয়ে এই পরিসংখ্যানই তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন । কিন্তু এই পরিসংখ্যানে সিএএ সংক্রান্ত বিতর্কে ইতি টানার পরিবর্তে উস্কে দিলেন নয়া বিতর্ক। রবিবার চেন্নাইয়ে ‘ জন জাগরণ অভিযানে সীতারামনের এই পরিসংখ্যান প্রশ্ন তুলে দিল, পুরোনো নাগরিকত্ব আইনে যদি সব ধর্মের এত শরণার্থী ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে নতুন সংশোধনী আইন আনার প্রয়োজন কী ছিল ? তবে কি বেছে বেছে মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব না – দিতেই এই সংশোধনী আইন ? এমনটাই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – সহ বিরোধীরা।

সীতারামনের দাবি, ১৯৬৪ থেকে ২০০৮ অবধি চার লক্ষেরও বেশি তামিল ( শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ) নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ২০১৪ পর্যন্ত পাকিস্তান , বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আসা ৫৬৬ জন মুসলিম ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ২০১৬ – ২০১৮ , মোদী সরকারের আমলে ১৫৯৫ পাকিস্তানি শরণার্থী , ৩৯১ জন আফগান মুসলিম ভারতের নাগরিকত্ব পান। গত ছ ‘ বছরে ২৮৩৮ পাকিস্তানি, ৯১৪ আফগান, ১৭২ বাংলাদেশি শরণার্থী নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছেন মুসলিমও।

তার পরেও মোদী – শাহরা এই কাজ করতে চাইছেন কারণ রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বদলে তারা হিন্দু রাষ্ট্র করতে চাইছে। যা বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছে। ‘ নির্মলা অবশ্য এ দিন শুরু থেকেই এটা প্রমাণ করতে তৎপর ছিলেন, সিএএ মুসলিম – বিরোধী নয়। এ প্রসঙ্গে গায়ক আদনান সামি এবং বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি। আর তাতেও পড়েছেন প্রশ্নের মুখে।

অর্থমন্ত্রীর কথায়, ২০১৬ থেকে ১০১৮ – এর মধ্যে অনেক শরণার্থী ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন , তার মধ্যে রয়েছেন আদনান সামিও। অন্য আর একটি দৃষ্টান্ত হল তসলিমা নাসরিন । এতেই বোঝা যায় , সিএএ মুসলিম – বিরোধী বলে আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা মিথ্যে। এই দাবিতে প্রশ্ন ওঠার কারণ , সামি ভারতের নাগরিকত্ব পেলেও বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা ২০০৪ সাল থেকে রেসিডেন্স পারমিটে ভারতে রয়েছেন। একাধিকবার নাগরিকত্বের দাবি জানিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার কেরালার লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে তসলিমা নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশ , পাকিস্তান , আফগানিস্তানের অত্যাচারিত সংখ্যালঘুরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন শুনে ভালো লাগল, কিন্তু আমার মতো মুসলিম , অর্থাৎ পাকিস্তান , বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মুক্তমনা, নাস্তিক মুসলিমদেরও ভারতে বসবাসের অধিকার পাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর মুখে তসলিমার দৃষ্টান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। আর আদনানের নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলেছেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা রাজা মুরাদ।

তাঁর প্রশ্ন , আদনান যদি নাগরিকত্ব পান, তা হলে বাকি মুসলিমরা সিএএ থেকে বাদ যাবেন কেন? এর জবাবে আদনানের সকৌতুক টুইট , ‘ আমি ভেবেছিলাম এই ভদ্রলোক শুধু সিনেমাতেই খলনায়ক এবং বাজে কথা বলেন। সিএএ – র গুরুত্ব বোঝাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ‘ জন জাগরণ অভিযান শুরু করেছে। নরেন্দ্র মোদীর দল সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই এদিন সীতারামনের এই ব্যাখ্যা।

তাঁর কথায় , ১৯৬৪ থেকে ২০০৮ অবধি চার লক্ষেরও বেশি তামিল ( শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ) ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ২০১৪ অবধি পাকিস্তান , বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আসা ৫৬৬ জন মুসলিম ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ২০১৬ – ২০১৮ , মোদী সরকারের আমলে ১৫৯৫ জন পাকিস্তানি শরণার্থী এবং ৩৯১ জন আফগান মুসলিম ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

সীতারামনের দাবি, পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা অনেক শরণার্থীই ৫০ – ৬০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন। শ্রীলঙ্কা থেকে আসা শরণার্থীদেরও একই অবস্থা। এই শরণার্থী শিবিরগুলোর অবস্থা দেখলে চোখ ফেটে জল আসে। ওখানে ওঁরা ন্যূনতম পরিষেবাটুকুও পান না। এঁদের ভালো জীবন দিতেই নতুন আইন, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে নয়।

কিন্তু তামিল শরণার্থী প্রসঙ্গেও উঠছে প্রশ্ন। কারণ , সিএএ – তে শ্রীলঙ্কা থেকে আসা সংখ্যালঘুদেরও বাদ রাখা হয়েছে , সেক্ষেত্রে তামিল শরণার্থীরা কি নাগরিকত্ব পাবেন ? থাকছে ধন্দ। ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার ( এনপিআর ) প্রসঙ্গে সীতারামনের আশ্বাস, ১০ বছর অন্তর এনপিআর আপডেট করা হয় , এর সঙ্গে এনআরসি – র কোনও সম্পর্ক নেই ।