ছবি সংগৃহিত

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মহারাষ্ট্র লোকসভার একটি আসনে জয় লাভ করার পর হায়দ্রাবাদের মজলিসে ইত্তেহাদুল বা মিমের নজর এবার মহারাষ্ট্র বিধানসভার দিকে। আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মহারাষ্ট্রে মিমের ফলাফল আশাব্যঞ্জক। অওরঙ্গাবাদ লোকসভা আসনে জয়ী হওয়ার পর বাকি যেসব কেন্দ্রে মিম জোট প্রার্থী দিয়েছিল সেখানে তারা লক্ষাধিক করে ভোট পেয়েছেন। সেই কারণে ওয়েইসি জানান, আমার বড় ভাই প্রকাশ আম্বেদকরের পরামর্শ মেনে আমরা মহারাষ্ট্র বিধানসভার জন্য এখন থেকে কাজে নেমে পড়তে চাই। উল্লেখ্য, প্রকাশ আম্বেদকরের বহুজন আজাদী সংগঠন মহারাষ্ট্রে দারুণভাবে সক্রিয়। এবারে এই সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে প্রার্থী দেয় মিম। শিবসেনার প্রার্থীকে পরাজিত করেন মিম-এর প্রার্থী পেশায় সাংবাদিক ইমতিয়াজ জলিল। তাঁর পিছনে অবদান রয়েছে প্রকাশ আম্বেদকরের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওয়েইসি জানান,বিরোধীরা এখনো ইভিএম নিয়ে বেশি ব্যস্ত। কিন্তু বিজেপি-আরএসএস সাধারণ মানুষের মন মানসিকতায় রিগিং করে বসেছে সেদিকে খেয়াল করেনি তারা। কংগ্রেস সম্পর্কে বলেন, সারাদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করে ১৮০ আসনে, তার মধ্যে পরাজয় বরণ করে ১৭০ টিতে। মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক,রাজস্থানে ক্ষমতায় থাকার পরও লোকসভা ভোটে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে কংগ্রেসের।

ওয়েসি বলেন,কংগ্রেসকে কেউ নিষেধ করেনি স্যেকুলার দলগুলির সঙ্গে হাত মেলাতে। কিন্তু কংগ্রেস কোনও কারনে হাত মেলাতে চায়নি। অনেকক্ষেত্রে তারা নরম হিন্দুত্বের লাইন গ্রহণ করেছিল, তা সত্ত্বেও সুবিধা করতে পারেনি। কংগ্রেস মনে করে সংখ্যালঘুরা তাদের ছাড়া আর কাউকে গ্রহণ করতে পারে না। এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। লোকসভায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ওয়েসির মন্তব্য জাতীয়তাবোধ ও হিন্দুত্ব এই দুটি বিষয়ে ভর করে এগিয়েছে বিজেপি। হিন্দুত্ব মতবাদ প্রচারের কাছে বেকারত্ব, জিএসটি, নোটবন্দি, মুদ্রাস্ফীতি, কৃষক আত্মহত্যা এসব বিষয় গুরুত্ব হারিয়েছে। সেগুলি যথা সময় তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বিরোধীরা বিজেপির হিন্দুত্ব প্রচারণার কৌশলের কাছে হার মেনেছে। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রে আমি নিজে থেকে কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম প্রকাশ আম্বেদকরের সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য। কিন্তু কংগ্রেস রাজি হয়নি। কংগ্রেসের আরও ‘একটি মহৎ কর্ম’ যে তারা এবার মুসলিমদের বেশি সংখ্যায় টিকিট দিতে চায়নি।