টিডিএন বাংলা ডেস্ক :  নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর ব্রিগেডের অন্য মন্ত্রীরা বারবার দাবি করেছেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা কমেছে। কিন্তু যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তাতে লজ্জায় মোদীর মুখ ঢেকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। গত ৫ বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যুর হার ৯৩% বেড়েছে। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রকাশিত এই রিপোর্টেই উঠে এসেছে এই তথ্য। কী বলবেন মোদী? জানতে চাইছে দেশ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূস্বর্গে নাশকতার ঘটনায় নিরাপত্তা রক্ষীদের মৃত্যুর হার ৯৩% বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ওই রাজ্যে গত ৫ বছরে সন্ত্রাসের ঘটনা বেড়েছে ১৭৬%। সরকারি তথ্য বলছে, এই সময়কালে কাশ্মীরে ১,৭০৮টি সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
না, একোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় লিখিত আকারে এই তথ্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ভূস্বর্গে নাশকতার ঘটনা ঘটেছিল ২২২টি । পরের বছর সেই সংখ্যা সামান্য কমে হয় ২০৮। যদিও এরপরই এই সংখ্যাটা লাফিয়ে বাড়তে থাকে। ২০১৬ সালে কাশ্মীরে নাশকতার ঘটনা বাড়ে ৫৪.৮%, ২০১৭ সালে বাড়ে ৬% ও ২০১৮ সালে বাড়ে ৭৯.৫৩%। ২০১৮তে প্রতি মাসে গড়ে ৫১টি করে নাশকতার ঘটনা ঘটে।

২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নাশকতার কারণে ভূস্বর্গে প্রাণ যায় ১,৩১৫ জনের। এঁদের মধ্যে ১৩৮জন সাধারণ মানুষ, ৩৩৯জন নিরাপত্তা রক্ষী ও ৮৩৮ জন সন্ত্রাসবাদী। বৃহস্পতিবারই সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলায় পুলওয়ামায় মৃত্যু হয়েছে ৪০ জন জওয়ানের। এরপর এই পরিসংখ্যান নিয়ে তোলপাড় হওয়া স্বাভাবিক। অস্বস্তি বাড়ল মোদীর।

গতকালের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদী। কী ব্যবস্থা নেবেন সেটাই সময়ই বলবে। তবে এই পরিসংখ্যান যে বিরোধীদের সরকারকে আক্রমণের রসদ জুগিয়ে দিল, তা বলাই যায়।