টিডিএন বাংলা ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশকে করে তুলেছে ‘ট্রগার হ্যাপি’। কথায় কথায় চলছে এনকাউন্টার। গ্যাংস্টারের নামে যাদেরকে এনকাউন্টারে খতম করা হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই মুসলিম বলে অভিযোগ। আইনের পরোয়া না করে যেভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, তাতে নড়েচড়ে বসেছে রাষ্ট্রসংঘ। এমন অন্তত 15 টি এনকাউন্টারের ঘটনার কথা উল্লেখ করে এই বিষয়ে কেন্দ্রের জবাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। যোগীর আরো অন্তত ৫৯টি ভুয়ো সংঘর্ষের খবর তাদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত দপ্তর ‘ওএইচসিআর’।

সাংবাদিক বৈঠকে উত্তর প্রদেশ পুলিশের এই বল্গাহীন এনকাউন্টারে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রসংঘ জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সূত্রের খবর এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের পাঠানো চিঠির কোনো জবাব দেয়নি কেন্দ্র। রাষ্ট্রসংঘের , দাবি এ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে যে ক’টি ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে,তার বেশিরভাগই ক্ষেত্রে নিহতরা মুসলিম। এই হত্যার বিষয়ে তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জের চার আধিকারিক অ্যাগনেস কালামার্ড, মাইকেল ফস্ট,নিলস মেলজার এবং আহমেদ শাহিদ। তাদেরই একজন বলেন , ‘বেশির ভাগই ক্ষেত্রে তুলে নিয়ে বা গ্ৰেপ্তার করে পুলিশি হেফাজতে এনকাউন্টার করে খুন করা হচ্ছে। মৃতদেহ উদ্ধারের পরে দেখা যাচ্ছে, তাদের শরীরে অত্যাচারের ছাপ স্পষ্ট।’ সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে বা আত্মরক্ষা করতে গিয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা বলে পুলিশ দাবি করেছে। যদিও তা মানতে নারাজ রাষ্ট্রসংঘ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে হত্যার আগে মুক্তি দেওয়ার নাম করে বন্দি পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এরপরই রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিস্ফোরক দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে যে কোন হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে,নিহতের পরিবারের হাতে ময়না তদন্তের রিপোর্ট তুলে দিতে হবে এবং ঘটনা তদন্তভার কোন নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে দিতে হবে। কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে এই নির্দেশও মানা হচ্ছে না।