টিডিএন বাংলা ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় ধসের ফলে বন্ধ উত্তরবঙ্গ-সিকিম যোগাযোগ ব‍্যবস্থা। কিছুদিন আগে ধসের ফলে কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ে টয়ট্রেন পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। বন্ধ ছিল রংপং-কার্শিয়াং রুটে যান চলাচলও। এবার ধসের ফলে সিকিমের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের। শুধু সিকিম নয়, ডুয়ার্স ও কালিম্পং-সহ একাধিক এলাকার সঙ্গে শিলিগুড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই উত্তরের প্রতি অতিরিক্ত সদয় বর্ষা। গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। উত্তরের জন্য ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এখনও। আর এই বৃষ্টির কারণেই বিভিন্ন এলাকায় ধস নামছে বলে খবর। বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টির কারণে ১০ ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামে। ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে একাধিক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরেই বাংলা-সিকিমের মধ্যে যাতায়াত চলে। ধস নামার ফলে দু’দিকেই এখন আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। যাঁরা সিকিমে গিয়েছেন, তাঁদের এখনই ফেরার কোনও পথ নেই। একইভাবে সিকিম যাওয়ার জন্যও দ্বার রুদ্ধ পর্যটকদের।

পাশাপাশি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কেও নেমেছে ধস। সেবক কালিবাড়ির কাছে একাধিক জায়গায় ধস নামার ফলে কালিম্পংয়ের সঙ্গেও শিলিগুড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হযে গিয়েছে। ডুয়ার্সের পর্যটকরাও সমস্যায় পড়েছেন। কারণ শিলিগুড়ির সঙ্গে ডুয়ার্স যাতায়াতের রাস্তাতেও নেমেছে ধস। এক কথায় শিলিগুড়ি থেকে আপাতত উত্তরবঙ্গ বা সিকিমের যে কোনও জায়গারই যোগাযোগ এখন বড়সড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপর আবহাওয়া দপ্তর উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি থামার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। উলটে শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে খবর। ফলে ধসের সম্ভাবনাও বাড়ছে। তবে বৃষ্টি থামলে যে ধস হবে না, তারও কোনও মানে নেই। স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টি থেমে গেলেও মাটি আলগা থাকে। ফলে ধসের প্রবণতা থেকেই যায়।

১০ ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে বিকেলের আগে এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। আশঙ্কা, রাস্তা যান চলাচলের উপযোগী করতে রাত গড়িয়েও যেতে পারে। ফলে কতক্ষণে শিলিগুড়ির সঙ্গে সিকিম, কালিম্পং ও ডুয়ার্সের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।