টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তাঁর কথায়, ভারতের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে ঠিকই। তবে, তা  ব্যবহারে এই দেশ অনিচ্ছুক। প্রাক্তন কূটনীতিবিদ রাকেশ সুদের লেখা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বই ‘নিউক্লিয়ার অর্ডার ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’ বইটি প্রকাশ করার সময় মনমোহন সিংহ এই কথা বলেন। তিনি বলেন, “ভারত হল একমাত্র দেশ যার কাছে বিস্তৃত এবং অগ্রগণ্য শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রকল্প রয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকির সঙ্গে লড়াই করার জন্য আমাদের কাছে অস্ত্র থাকলেও তার কারিগরি দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তাকে অন্য কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করা হয়। যে কারণে পারমাণবিক বোম নিয়ে ভারতের চিন্তাধারা বাকি দেশগুলোর তুলনায় স্বতন্ত্র”।

তিনি এই কথাও বলেন, গত ৭০ বছরে পরমাণু বিজ্ঞান এবং তার কারিগরি প্রচুর উন্নতি করেছে। এখন তার ব্যবহারও অনেক সহজেই করা যায়।

“বহু নেতাই এই কথা জানেন এবং বিশ্বাস করেন যে, এর ফলে প্রভূত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে এমন অবস্থাও সৃষ্টি হতে পারে, যা ১৯৪৫ সালের পর বিশ্ব দেখেনি। বহুমাত্রিকতা এখন বিশ্ব অর্থনীতির কাছে জরুরি আলোচনার বিষয়। এবং, বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতিতেও তার প্রভাব অস্বীকার করা যায় না”, বলেন মনমোহন সিংহ।

নিজে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারত মার্কিন অসামরিক পরমাণবিক চুক্তির বিষয়ে

বিষয় প্ররম্ভিক আলোচনার জন্য তিনি ২০০৫ সালের জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। এর পর ২০০৬ মার্চে জর্জ ডব্লু বুশের সফল ভারত পরিদর্শনের সময় আণবিক চুক্তির ঘোষণা হয়। যার ফলে ঠিক হয়, ভারত মার্কিন আণবিক জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং আইএইএ এও অসামরিক আণবিক চুল্লি গুলি পরিদর্শনের অনুমতি পাবে। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর ও আইএইএ, নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ ও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০০৮ এর ১০ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মনমোহন সিং।