টিডিএন বাংলা ডেস্কঃ আসামের এনআরসি ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনার। পাশাপাশি ভারত সরকারকে জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার রক্ষার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। জেনেভাতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪২ তম অধিবেশনে কমিশনের হাই কমিশনার মিশেল বাকলেট এনআরসি এবং জম্মু- কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বক্তব্য দিতে গিয়ে মানবাধিকার কাউন্সিলের হাই কমিশনার বাকলেট বলেন, সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে জাতীয় নাগরিক যাচাইকরণের একটি প্রক্রিয়া চলছে। যেখানে ১৯ লক্ষ মানুষকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। আমি সরকারের কাছে আবেদন করছি যেন আপিলের প্রক্রিয়া আরও সহজ করেন। কোনো বাসিন্দাকেই রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া উচিত নয়।

এদিন জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অনুচ্ছেদ অপসারণের পরে সেখানকার উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এলওসির উভয় পক্ষের মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে মিশেল বেকলেট বলেন, ইন্টারনেট, ফোন পুনরুদ্ধার এবং আটক কাশ্মীরি নেতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি সহ কাশ্মীরের মানুষের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলি সরিয়ে নেওয়া উচিত।

ইউএনএইচআরসি হাই কমিশনার আরো বলেছেন, তিনি কাশ্মীরের কিছু জায়গায় কারফিউ শিথিল করার জন্য ভারত সরকারকে বিশেষভাবে আবেদন করছেন। কাশ্মীরের জনগণের ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত যে কোনও সিদ্ধান্তের বিষয়ে কাশ্মীরের জনগনের পরামর্শ নেওয়ার ব্যাপারেও তিনি জোর দেন।

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনারের বক্তব্যের পরেই ভারতের পক্ষ থেকে একটি সরকারী টুইট করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের ৯৯% অঞ্চলে কোনও বিধিনিষেধ নেই। মানবাধিকারের জন্য বেঁচে থাকার অধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের সবচেয়ে অন্যতম দায়িত্ব।