টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ২২ মার্চ রবিরার করোনার যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য থালা, ঘণ্টা, কাঁসর ইত্যাদি বাজানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর আবার শুক্রবার সকাল ন’‌টার সময় এক ভিডিও বার্তায় করোনা মোকাবিলায় ৫ এপ্রিল রবিরাব রাত ন’‌টায় ঘরের আলো বন্ধ করে প্রদীপ, টর্চ, মোবাইলের আলো জ্বালানোর পরামর্শ দেন মোদি। বার বার প্রধানমন্ত্রীর এমন ভাষণের তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে বিরোধীরা। মোমবাতি জ্বালানোর চেয়ে নিজের হৃদয়ে আলো জ্বালান, দেশ আরও উন্নত হবে, মোদিকে কটাক্ষ এমনটাই মন্তব্য করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। টুইটে মোদির উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘মোমবাতি জ্বালানোর চেয়ে নিজের হৃদয়ে আলো জ্বালান। তাতে দেশ আরও উন্নত হবে।’‌

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার পর বিষয়টিকে ‘‌চটকদারি’‌ ও ‘‌হিন্দু প্রতীক চাপিয়ে দেওয়া’‌র অভিসন্ধি বলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। আরও বলেছেন, ‘‌ফিল গুড মুহূর্ত তৈরি করতে চাইছেন ভারতের ফটো–‌‌অপ প্রধানমন্ত্রী।’‌ তিনি টুইটে লেখেন, রামনবমীর দিন সকাল নটায় মোদি বলেছেন রবিবার রাত নটায় ন’‌মিনিট মোমবাতি–প্রদীপ জ্বালাতে। এর সঙ্গে হিন্দুত্বের অনুষঙ্গ খুবই স্পষ্ট, বলেছেন থারুর।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে এই বক্তব্য কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের। তিনি আরও বলেছেন, ‘‌আজ আপনার কাছ থেকে আমরা দ্বিতীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিকল্পনা ঘোষণা আশা করেছিলাম। গরিবের জীবনযাত্রার জন্য উপযুক্ত প্যাকেজ ঘোষণার আশা করেছিলাম। ২৫ মার্চ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে গরিবদের উপেক্ষা করেছেন, তাঁদের জন্যেও কিছু ঘোষণার আশা করেছিলাম।’‌

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের জন্য আর্থিক প্যাকেজের দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেছেন, ‘‌আলো নিভিয়ে বারান্দায় বেরিয়ে আসতে হবে?‌ বাস্তবে ফিরে আসুন মোদিজি। দেশকে জিডিপি–‌‌র ৮–‌‌১০ শতাংশের আর্থিক প্যাকেজ দিন। লকডাউন পর্বে নির্মাণকর্মী ও অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে মজুরি নিশ্চিত করুন। এজন্য আইন তৈরি হয়ে আছে। ভুয়ো খবর বন্ধ করার নামে প্রকৃত বিষয়গুলি দমানোর চেষ্টা বন্ধ করুন।’