টিডিএন বাংলা ডেস্ক: একাধিক শিশু ও মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে স্বঘোষিত ধর্মগুরু নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে। গত নভেম্বরের প্রথম দিকে এফআইআর দায়ের হয় নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে। বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে গুজরাট পুলিশ। নিজের আশ্রম চালানোর জন্য বাচ্চাদের অপহরণ করে সেই শিশুদের দিয়ে ভক্তদের থেকে টাকাপয়সা জোগাড়ের মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল নিত্যানন্দর বিরুদ্ধে। এরপর দু’জন মেয়ে নিখোঁজ হয়েছিল নিত্যানন্দর আহমেদাবাদের আশ্রম থেকে। এরপরেই প্রকাশ্যে আসে গডম্যানের নানা কীর্তি শোরগোল পড়ে যায় গোটা দেশে। কর্ণাটকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পাসপোর্ট ছাড়াই ভারত ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন নিত্যানন্দ। এবার ধর্ষণে অভিযুক্ত নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে ‘ব্লু নোটিস’ জারি করেছে ইন্টারপোল। গুজরাতে পুলিশের আর্জিতেই ইন্টারপোল এই নোটিস জারি করেছে বলে খবর।
সাধারণত কোনও নিখোঁজ ব্যক্তি, শনাক্ত হয়ে যাওয়া অপরাধী, বা কাউকে অপরাধী বলে মনে করা হলে কিংবা আইন লঙ্ঘনকারী কোনও ব্যক্তি যদি নিজের দেশে ছেড়ে অন্য দেশে আত্মগোপন করে সেক্ষেত্রে এই ব্লু নোটিস বা ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়। এই নোটিস জারি হলে যে দেশে অপরাধী লুকিয়ে থাকে সেই দেশ ওই নির্দিষ্ট অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য। 
কিছুদিন আগে শোনা যায় দেশছেড়ে পালিয়ে গিয়ে ইকুয়েডরে রয়েছেন নিত্যানন্দ। আস্ত একটা দ্বীপ কিনে তার নাম দিয়েছে ‘কৈলাস’। সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে ঘাঁটি বেঁধেছেন সেখানেই। নিশ্চিত খবর না হলেও বিভিন্ন সূত্র মারফর জানা গিয়েছে এমনটাই। 
নিত্যানন্দকে নিয়ে সারা দেশ জুড়ে তৈরি হওয়া রহস্যের মাঝেই প্রকাশ্যে আসে একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, আমি হলাম পরম শিব। এখন কেউ আমাকে স্পর্শও করতে পারবে না। ওই ভিডিওতে গডম্যান আরও দাবি করে যে কোনও আদালত, আইন-কানুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।
সেই সময় বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছিল, তাদের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা গুজরাট পুলিশও তাদের কিছু জানায়নি বলে দাবি বিদেশ মন্ত্রকের। 
উল্লেখ্য, বড় মাপের কোনও অপরাধ করে বা জালিয়াতি করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নজির এ দেশে কম নেই। নীরব মোদি থেকে বিজয় মালিয়া– উদাহরণ আছে বহু। এবং সমস্ত ক্ষেত্রেই বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছে, তারা কিছু জানতে পারেনি এ বিষয়ে। নিত্যানন্দের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিত্যানন্দ পালিয়ে যাওয়ার পরে সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানার কথা অস্বীকার করে মন্ত্রক।
নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে যে এটাই প্রথম অভিযোগ তা নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে হিমাচল প্রদেশের সিমলার ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম থেকে যৌন কেলেঙ্কারির দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল নিত্যানন্দকে। গত বছর জুন মাসেও তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে চার্জ গঠিত হয়েছিল। অপহরণ ও আমদাবাদের শিশুদের বেআইনি ভাবে আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এবার ফেরার নিত্যানন্দর খোঁজে নোটিস জারি করল ইন্টারপোলও।