টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারত সফরে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই সময়েই উত্তরপূর্ব দিল্লিতে ভয়াবহ হিংসা ছড়ায়। ক্ষয়ক্ষতি হয় বিপুল পরিমাণে। মসজিদ, বাড়ি, দর্গা, বাজার, দোকান সহ একাধিক জায়গায় আগুন দিয়ে ভস্মীভূত কর দেওয়া হয়। এমনকি সরকারি হিসেবে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। আহত শত শত। এবার সেই হিংসায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণারত ছাত্রের বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মিরান হায়দর নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ৩৫ বছরের মিরান আরজেডি–র দিল্লি যুব শাখার প্রধান।

আরও পড়ুন: অগ্নিগর্ভ দিল্লিতে ফের ‘গোলি মারো সালো কো’ স্লোগান, হিংসায় মদত বিজেপি বিধায়কের!

পুলিশের দাবি, হিংসাত্মক কাজকর্মে ইন্ধন দেওয়ার পিছনে হাত ছিল মিরানের। বুধবারই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও জেরা করার জন্য মিরানকে নিজেদের হেপাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানাবে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: দিল্লির হিংসায় ৬৯০টি এফআইআর দায়ের হলেও বিজেপি নেতা অনুরাগ-কপিল-প্রবেশ বর্মার বিরুদ্ধে নয় কেন? প্রশ্ন কংগ্রেসের

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে হিংসা ঘটনায় অগ্নিগর্ভ দিল্লি। একের পর এক করে ৫৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়। সে সময় দিল্লিতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ঠিক সেই সময় হিংসায় প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছিলেন লক্ষ্মীনগর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অভয় বর্মা। এমনটাই অভিযোগের পক্ষে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল দিল্লির ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টি। আপের শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্মীনগর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অভয় বর্মার নেতৃত্বে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে মিছিল করছেন তাঁর সমর্থকরা। সেই শোভাযাত্রা থেকেই শোনা যাচ্ছে, সেই বিতর্কিত ‘গোলি মারো’ স্লোগান। মিছিলে অভয় বর্মার সমর্থকরা, ‘পুলিশ কে হত্যারে কো, গোলি মারো সালো কো’, ‘দেশ কে হত্যারো কো, গোলি মারো সালো কো’র মতো স্লোগান দেন। সরাসরি সাম্প্রদায়িক কথা বলতেও শোনা যায় তাঁদের।

আরও পড়ুন: অবশেষে যোগীরাজ্য থেকে গ্রেফতার দিল্লি হিংসায় অন্যতম অভিযুক্ত শ্যুটার শাহরুখ চন্দ্রাল

উল্লেখ্য, তাঁর আগেও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় দিল্লির একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর স্লোগান তুলেছিলেন, “দেশকি গদ্দারো কো…”, তাতে জনতা গলা মিলিয়েছিল, ” গোলি মারো শালো কো।” এর পরেই দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সিএএ বিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় রামভক্ত গোপাল। দিল্লি পুলিশের সামনে একাজ করলেও দিল্লি পুলিশ সেদিন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।