টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নাবালিকা মেয়েদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলো হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাহোদা কালান এলাকার জ্যোতিগিরি মহারাজের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ দায়েরকারী আম আদমি পার্টির হরিয়ানা ইউনিটের মিডিয়া ইনচার্জ সুধীর যাদব বলেন, এক সপ্তাহ আগে ভিডিও ভাইরাল হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

মানেশার ডিসিপি বলেছেন, ” ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরের দিনই পুলিশ গ্রামে পৌঁছায়। আমরা পুলিশকে সেখানে সুরক্ষার জন্য রেখেছি। মামলাটি সাইবার পুলিশ দেখভাল করছেন। যদিও আমরা যেদিন গেলাম বাবা আশ্রমে ছিলেন না।’

এই মামলায় যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছে তার বিরুদ্ধে সোমবার গুরুগ্রাম সাইবার পুলিশ একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। সরপঞ্চের মতে, ১৩ আগস্ট বাবার ভিডিও আসার পর থেকে জ্যোতিগিরি মহারাজ পলাতক রয়েছেন।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, “জ্যোতিগিরি মহারাজ তার সাথে জোর করে সম্পর্ক করতে চেয়েছিল।” এই মহিলারও অভিযোগ, “জ্যোতিগিরি মহারাজ কয়েকশ নাবালিকা মেয়েকে যৌন নির্যাতন করেছেন। মহিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বার্তায় লিখেছেন যে কমপক্ষে ১০-১২জন মেয়ে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে প্রস্তুত তবে তাদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। তার কাছে জ্যোতিগিরি মহারাজের যৌন নির্যাতনের ৬০০টি ভিডিও রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই মহিলা।

আম আদমি পার্টির সুধীর যাদব তার অভিযোগের একটি অনুলিপি জাতীয় মহিলা কমিশন, হরিয়ানা মহিলা কমিশন, মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রেরণ করেছেন। দীপ্রিন্টের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি গুরুতর। জ্যোতিগিরি মহারাজের রাজনৈতিক মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মনোভাবও প্রশ্নবিদ্ধ।

জ্যোতিগিরি মহারাজ সম্পর্কে গুঞ্জন রয়েছে যে তিনি আইএএস চাকুরী ছেড়ে বৈরাগী হয়েছিলেন। দক্ষিণ হরিয়ানাতে তাঁর তিনটি গৌশালা রয়েছে। গ্রামের সরপঞ্চ যজ্ঞবীরের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, উজ্জয়েন, কাশী, গুরুগ্রাম এবং হরিদ্বারের মতো শহরেও বাবার অনেক আশ্রম রয়েছে। আহত, ক্ষুধার্ত ও অসুস্থ গরু এই গৌড়শালায় রাখা হয়েছে। লক্ষাধিক অনুদান এবং খাবারে এই গৌড়শালায় ভরে যায়। গুরুগ্রাম আশ্রমের পিছনেও একটি হাসপাতাল রয়েছে। ইউটিউবে অনেকগুলি ভিডিও রয়েছে যেখানে তিনি রাম মন্দিরের মতো ইস্যুর পক্ষে কথা বলছেন। বাহোদা কালান গ্রামের ১০০-১৫০ জন ব্যক্তি বাবার বিরুদ্ধে এফআইআর এর দাবিতে বুধবার থানায় যাওয়ার কথাও রয়েছে এবং বন্ধেরও ডাক দিয়েছেন।

গ্রামের এক ব্যক্তি সুনীল চৌহান (নাম বদলানো) দি পিন্টকে বলেছেন, “গ্রামে টানাপড়েনের পরিপ্রেক্ষিতে বাবার আশ্রমের আশেপাশে পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ১৫ আগস্ট একটি পঞ্চায়েতও আহ্বান করা হয়েছিল। গ্রামের অপর মহিলা যিনি বাবার সহযোগী ছিলেন তিনিও পলাতক রয়েছেন। ‘ সুনীল চৌহান আরও বলেছেন, ‘ বাবা গত কুড়ি বছর ধরে এই গ্রামে বসবাস করছেন। দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং হরিয়ানা থেকে লোকজন তার কাছে আসে। গ্রামের লোকেরা সরপঞ্চের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, তাকে কেবল বাবার কারণে সরপঞ্চ করা হয়েছিল। ‘একই সাথে গ্রামের সরপঞ্চের মতে,বিজেপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রীরা থেকে আইএনএলডি পর্যন্ত বাবার কাছাকাছি রয়েছেন। গুরুগ্রামের সাংসদ রাও ইন্দ্রজিৎ থেকে বিজেপি নেতা সন্তোষ যাদব, রাও নারবীর এবং রামবিলাস শর্মাকেও বাবার কাছে যেতে দেখা গেছে।