টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মাত্র ৪ মাস আগে দীর্ঘ নাটক চলার পর জোট সরকারের পতন ঘটিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করেছিল। ঠিক তার ৪ মাস পর আজ বৃহস্পতিবার কর্ণাটক বিধানসভার ১৫টি আসনে উপনির্বাচন। বিজেপিকে তার সরকার টিকিয়ে রাখতে হলে ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টি আসনে জয়ী হতে হবে। উপনির্বাচনের ফল বেরোবে ৯ ডিসেম্বর। আর সেদিনই বিজেপির সরকার টিকিয়ে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে ভোটের আগেই বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে ফের বিধায়ক কেনার অভিযোগ এনেছে কংগ্রেস। সমস্যা কংগ্রেসের শিবিরেও। সিদ্দারামাইয়া যাতে মুখ্যমন্ত্রী হতে না পারেন, সেজন্য তৎপর কংগ্রেসেরই একাংশ।

কর্ণাটকের কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, বিধায়ক কিনে দল ভাঙাতে নেমে পড়েছে বিজেপি। খরচ করা হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাওয়ের অভিযোগ, ইতিমধ্যেই কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ককে ফোন করেছে বিজেপি। তঁার হুঁশিয়ারি, ‘‌ফের অপারেশন কমলা করলে মানুষ তাদের ধরে পেটাবে। যদি বিজেপি আমাদের দল ভাঙাতে চায়, তবে কংগ্রেসও চুপ করে বসে থাকবে না।’‌ গুন্ডু রাও দাবি করেন, বিধায়ক–‌পদ খারিজ–‌হওয়া কংগ্রেসের বাসবরাজ, সোমশেখর ও মুনিরত্ন উপনির্বাচনে বিজেপি–‌র হয়ে দঁাড়ালেও, হারের ভয়ে কংগ্রেসে ফিরতে চাইছেন। বিধায়ক–‌পদ হারানো ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনকেই উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। প্রদেশ সভাপতির অভিযোগ, ভোটে কোটি কোটি টাকা খরচ করা নিয়ে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে আয়কর দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেস। কোনও লাভ হয়নি।

এদিকে সিদ্দারামাইয়া এখন কর্ণাটক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। উপনির্বাচনে দলের শক্তি বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে চান। সিদ্দারামাইয়ার বিরোধীরা দিল্লিতে গিয়ে ফের জেডিএসের সঙ্গে জোটের দাবিতে সরব হয়েছেন। একক শক্তি বাড়াতে উপনির্বাচনে ১২টি আসনে আলাদা ভাবেই লড়ছে কংগ্রেস ও জেডিএস। মাত্র ৩টি আসনে সরাসরি লড়াই হচ্ছে কংগ্রেস ও বিজেপি–‌‌র। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া বুধবারই দলত্যাগীদের হারাবার আর্জি জানিয়েছেন।

২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভার ২টি আসনে মামলা চলায় এখন আসন ২২২। বিজেপি–‌র বিধায়ক ১০৫ জন। গরিষ্ঠতা পেতে ৬টি আসনে জিততেই হবে বিজেপি–‌কে। বিধায়ক ভাঙানোর পর এখন কংগ্রেস ও জেডিএসের বিধায়কের সংখ্যা কমে হয়েছে ৬৬ ও ৩৪।