টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশজুড়ে এনআরসি ও সিএএ এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন চলছে। এর মধ্যেই ভারত থেকে বাংলাদেশীদের বার করে দেওয়া হবে বলে একাধিক হুঙ্কার দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দেশজুড়ে এনআরসি করা হবে বলেও বিভিন্ন সভায় একাধিক হুঙ্কার দিয়েছে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এনআরসি হওয়ার আগেই এবার বোধহয় দেশ থেকে বিতারনের কাজটা শুরু করল বিজেপি শাসিত কর্নাটকের ইয়েদুরাপ্পা সরকার। শুধুমাত্র বাংলাদেশী শরণার্থী রয়েছে-এই সন্দেহে রাতের অন্ধকারে প্রায় ২ শো ঘরবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ কর্নাটকের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। ইয়েদুরাপ্পা সরকারের সন্দেহ, বেঙ্গালুরুর বেল্লান্দুরের কাছে কারিয়াম্মা আগ্রাহারা অঞ্চলে বাস করেন বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পুলিশ এবং পুরকর্মীরা একযোগে এসে ওই এলাকার স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, বেআইনিভাবে ওই অঞ্চলে বাড়ি তৈরি করে থাকচ্ছেন বাংলাদেশি শরণার্থীরা। বহু পরিবার রাস্তায় এসে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। জমির মালিককে উৎখাতের নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে পুলিশের বক্তব্য মানছেন না সমাজকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, এখানে যাঁরা থাকতেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কর্নাটকের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ, থাকতেন উত্তর ও উত্তর পূর্ব ভারতের মানুষজনও। এঁরা বেঙ্গালুরুতে গৃহকর্মী, নির্মাণকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করে থাকেন। আইনজীবী বিনয় শ্রীনিবাস বলেছেন, যাঁরা ভাঙতে এসেছিল তাদের মধ্যে অনেকেই সাদা পোশাকে এসেছিল। তাঁদের বক্তব্য তারা মারাঠাহাল্লি পুলিশের লোক, পুরকর্মীদের সুরক্ষা দিতে এসেছে। কিন্তু এলাকায় কোনও পুরকর্মীর দেখা পাওয়া যায়নি।

এক স্থানীয়ের বক্তব্য,‘আমরা যখন নির্দেশের কপি দেখতে চাই তখন তাঁরা ভাঙা বন্ধ করে। অস্থায়ী বাড়িতে যদি বাংলাদেশিরা বাস করে, তাহলে তাঁদের প্রথমে চিহ্নিত করা হোক, তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সব বাড়ি ভাঙার দরকার কী!’

কুমার দাস নামে একজন জানালেন, ‘আমরা ভারতীয়, আমাদের কাগজপত্র আছে। পুলিশ এসে কোনও নোটিস না দিয়ে বাড়ি ভাঙতে শুরু করে দিল। এখানে যাঁরা থাকেন, তাঁরা আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তর কর্নাটকের বাসিন্দা।’

এই ঝামেলার সূত্রপাত স্থানীয় মহাদেবপুরার বিজেপি বিধায়ক অরবিন্দ লিমবাভালি ১২ জানুয়ারির একটি ট্যুইট৷ সেখানে তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, বাংলাদেশের শরণার্থীরা এই এলাকায় বাস করছে। এই এলাকা মহাদেবপুরা বিধানসভার মধ্যে পড়ে। এসব জায়গায় বেআইনি কাজকর্ম চলছে, পরিচ্ছন্নতার অভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, এলাকা বেআইনি কাজকর্মের ঘাঁটি হয়ে উঠছে।‌‌‌

সুত্র- আজকাল