টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটে বিজেপির সঙ্গে জোট করে লড়াই করেছে শিবসেনা। কিন্তু ভোটের পর সরকার গঠন নিয়ে শিবসেনার ৫০-৫০ দাবি মানতে নারাজ বিজেপি। আর এতেই আবার নতুন করে সম্পর্কের ফাঁটল ধরেছে। ৩৭০ ধারা রদের পর দেশের বিরোধী কোনো মন্ত্রী কে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে দেয়নি মোদি সরকার। কিন্তু ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের উপত্যকায় আমন্ত্রণ কেন? প্রশ্ন তুলে মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো শিবসেনা। শিব সেনার মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন করা হয়েছে, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। তাহলে কাশ্মীরে বিদেশি সাংসদদের কেন আমন্ত্রণ জানানো হল?

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৩ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধি কাশ্মীরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উপত্যকায় যান। তাঁরা কাশ্মীরের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঘুরে দেখেন ডাল লেকের আশেপাশের অঞ্চল। ডাল লেকে নৌকাবিহার করতেও দেখা যায় তাঁদের। এই সাংসদদের কাশ্মীর পর্যবেক্ষণ নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন তুলছিল বিরোধীরা। তাদের প্রশ্ন, সেখানে দেশের সাংসদদের কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে ভিনদেশী সাংসদদের কেন অনুমতি দেওয়া হল?

খানিকটা বিরোধীদের সুরেই সুর মেলাল শিব সেনাও। তাদের মুখপত্র সামনায় লেখা হয়েছে, “কাশ্মীরে ইউরোপের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষণ করে গিয়েছেন। কাশ্মীর আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে দেশের জাতীয় পতাকা উড়ছে, এতে আমরা গর্বিত। কিন্তু, কাশ্মীরে যদি সবকিছু ঠিকই থাকবে, তাহলে দেশের বাইরে থেকে প্রতিনিধিদল আনার কী দরকার ছিল। আপনারা চান না রাষ্ট্রসংঘ হস্তক্ষেপ করুক। অথচ, আপনারাই ইউরোপের প্রতিনিধিদের আনছেন। বিদেশিরা কাশ্মীরে আসছে মানে এটা আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এবং এতে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।” শুধু তাই নয়, বিরোধীদের সুরে, দেশীয় সাংসদদের কাশ্মীর যাওয়ার অনুমতি কেন দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির জোটসঙ্গী।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সাংসদরা এসেছিলেন তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা কাশ্মীরে শান্তি চান। সন্ত্রাসবাদ গোটা বিশ্বের সমস্যা। গোটা ইউরোপ সন্ত্রাস দমনে ভারতের পাশে আছে। ওই প্রতিনিধিদল ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কোনও রিপোর্ট দেবে না বলেও জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, “কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরের বিষয়। তাই আমরা কোনও রিপোর্ট দেব না।”