টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সরব হয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির কন্যা ইলতিজা জাভেদ। ১৫ আগস্ট সারা দেশে মহাসমারোহে পালিত হল স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু কাশ্মীরিদের স্বাধীনতা নিয়ে আরও একবার সরব হলেন মেহবুবা কন‍্যা। কাশ্মীরিদের কে জন্তুর মতো খাঁচা বন্দি করে রাখা হয়েছে, এমটাই অভিযোগ তুলে ইলতিজা এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কে চিঠি লিখলেন।

ইলতিজা তাঁর দ্বিতীয় ভয়েস মেসেজে অভিযোগ করেছেন যে তাঁর মা গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিন পরে তাঁকে তাঁর বাড়িতে আটক করা হয়েছে। ইলতিজা জাভেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও চিঠি দিয়ে এও অভিযোগ করেন যে, তিনি যদি আবারও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তবে তাঁকে “ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে”। কাশ্মীর উপত্যকার তালাবন্দি পরিস্থিতি দ্বাদশ দিনে পড়ল শুক্রবার। এখনও জম্মু ও কাশ্মীরের শীর্ষস্থানীয় মূলধারার রাজনৈতিক নেতারা গ্রেফতার অবস্থাতেই রয়েছেন। যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে উপত্যকার দু’জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী – মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাও রয়েছেন।

“১৫ অগাস্ট দেশের বাকি অংশগুলি ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করলেও, কাশ্মীরিরা জন্তুর মতো খাঁচাবন্দি হয়ে রয়েছেন এবং তাঁরা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন,” অমিত শাহকে চিঠিতে এমটাই লেখেন মেহবুবার মেয়ে। তিনি বলেন যে তাঁর বাড়ির দরজা থেকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা মানুষজনকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁকেও বাড়ি থেকে এক পাও বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা তাঁর চিঠিতে তাঁকে আটক করে রাখার কারণ জানতে চেয়ে তিনি বলেন, যে নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁর আটক হওয়ার কারণ হিসাবে গণমাধ্যমের সামনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। “আমি আবার কথা বললে আমাকে মারাত্মক পরিণতিরও হুমকি দেওয়া হয়েছে,” চিঠিতে একথাও লেখেন তিনি ।

কাশ্মীরের যোগাযোগের মাধ্যমগুলি বন্ধ থাকায় তিনি একটি ভয়েস নোটও প্রকাশ করেছেন । জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অবলুপ্তি এবং এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই একরকম বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর।

তিনি অডিও বার্তায় বলেছেন, “আমার সঙ্গে একজন অপরাধীর মতো আচরণ করা হচ্ছে এবং আমি নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রয়েছি । আমি অন্য যেসব কাশ্মীরিদের সঙ্গে কথা বলেছি তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে আমারও প্রাণহানির ভয় রয়েছে।”

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লার পাশাপাশি গত রবিবার মধ্যরাত থেকে গৃহবন্দি করে রাখা মেহবুবা মুফতিকে গ্রেফতার করে পরের দিন তাঁর শ্রীনগরের বাড়ি থেকে কাছের সরকারি গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়।

আইএএস অফিসার তথা রাজনীতিবিদ শাহ ফয়জলকেও বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করে শ্রীনগরে ফেরত পাঠানো হয়, যেখানে তাঁকে জননিরাপত্তা আইনের আওতায় গৃহবন্দি করা হয়েছে।ওই রাজনৈতিক নেতাদের কবে মুক্তি দেওয়া হবে তা এখনও জানা যায়নি।

ব্ল্যাকআউটের অংশ হিসাবে, কাশ্মীর উপত্যকায় ফোন পরিষেবা এবং ইন্টারনেট সংযোগ স্থগিত রয়েছে এবং কারফিউয়ের মতো বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করছেন।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন জানিয়েছে যে কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞাগুলি পর্যায়ক্রমে সরানো হবে। পুলিশ বলেছে যে কাশ্মীরে আরও “কিছু সময়ের জন্য” এই নিষেধাজ্ঞাগুলি চলবে।