সহদেব মাহাত, টিডিএন বাংলা, পুরুলিয়া : ভারতের বিভিন্ন জনগণনায় কুড়মি জনজাতি Aboriginal Tribes হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। স্বাধীন ভারত সরকার ১৯১৩ সালের প্রকাশিত ৫৫০ নং নোটিফিকেশন অনুয়ায়ী যে ১৩ টা  জাতি এসটি তালিকাভুক্ত ছিল তার মধ্যে ১২ টা জাতিকে আদিবাসী তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে। বাদ দেয় কুড়মি জনজাতিকে। বিস্ময়কর বিষয় হল কুড়মি জাতির নাম তালিকাথেকে বাদ দেওয়ার বিষয় টি নিয়ে পার্লামেন্টে কোন বিল বা আর্ডিন্যান্স আনা হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি নোটিফিকেশন, এমেন্ডমেন্ট, গেজেটিয়ার, সরকারি পাঠ্যপুস্তক, সমীক্ষা, হাইকোটের রায় কুড়মি জাতি S.T হিসাবে স্বীকৃত ও উল্লেখিত। ৭০ বছর ধরে এই জনজাতি টি স্বপরিচয়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে সংগঠন গুলি আন্দোলন করতে না পারায় আন্দোলনে গতি পায় না। অবশেষে ২০-২২ টা সংগঠন বাংলা, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, ৩ রাজ্যে একযোগে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ রেল অবরোধের ডাকদেন। কুড়মি সেনার পুরুলিয়া জেলা সহসভাপতি সুদীপ মাহাত বলেন “জহরলাল নেহেরু তাঁর টুপিটা কুড়মি জনজাতিকে পরায়, বিনা কারনে আদিবাসী তালিকা থেকে বাদ দেন। রাস্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে শিকার আমরা, ৭০ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে ছোটনাগপুর মালভূমিতে গর্জে উঠেছে কুড়মি সেনারা। মেদনীপুরের যুবনেতা ভূপেন মাহাত বললেন – “আমাদের মাতৃভাষা কুড়মালি থেকে বঞ্চিত আমরা, যুবরা সচেতন হচ্ছে, আমরা আন্দোলনে ভালো সাড়া পাচ্ছি। বাঁকুড়ার বিপ্লব মাহাত বললেন-  “আমাদের লড়াই কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ের বিরুদ্ধে। দিদি ১৯৯৪ সালে কুড়মি জাতির আদিবাসীত্ব ফিরে পেতে কেন্দ্রের কাছে সওয়াল করেছিলেন। অথচ  এখন রাজ্য আমাদের বিষয়ে নীরব।” তাই সারা  ছোটনাপুর মালভূমি গর্জে উঠেছে স্বপরিচয়ের দাবিতে।