টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মোদী সরকার অযোধ্যার বাবরি মসজিদ চত্বরের বিতর্কিত অধিগৃহীত জমি রামজন্মভুমি ন্যাসের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই জমি অধিগ্রহণ পুরোপুরি বাতিল করার দাবি জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করল রামমন্দির ভক্তরা। সুপ্রিম কোর্টে আবেদনে তারা জানিয়েছে, অযোধ্যায় জমি অধিগ্রহণের অধিকার নেই কেন্দ্রের। তাই পুরো অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াই সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। এই অধিগ্রহণ অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। উল্লেখ্য, বিজেপি ও হিন্দুত্ব বাহিনী ১৯৯২সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়ার পরে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। সেসময়ে বাবরি মসজিদ ও তার লাগোয়া ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্র। তা নিয়ে কেন্দ্রে আইন পাশ হয়। সেসময়েও এই জমি অধিগ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। ড. ইসমাইল বনাম ভারত সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বৈধতা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেয়। রায়ে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, সাংবিধানিকভাবে এই অধিগ্রহণ বৈধ। ফের মহম্মদ আসলাম ভুরে বনাম ভারত সরকারের মামলায় এই অধিগ্রহণ বাতিলের আবেদন জানানো হয়। ফের সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে অধিগ্রহণ বহাল রাখার কথা জানিয়ে দেয়। লোকসভা নির্বাচনের মুখে রামমন্দির নিয়ে ফের তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি। ইতিমধ্যে এই রামমন্দির ইস্যুকে উসকে দিতেই বাবরি মসজিদের অধিগৃহীত জমি রামজন্মভুমি ন্যাসের হাতে তুলে দিতে সুপ্রিম কোর্টের সম্মতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে মোদী সরকার। গত ২৯জানুয়ারি এই আবেদনে কেন্দ্র জানিয়েছে, অধিগৃহীত জমির মধ্যে বাবরি মসজিদের মাত্র ০.৩১৩একর জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তার বাইরে যে জমি রয়েছে তা তার মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি মঞ্জুর করা হোক। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই এবারে সনাতন ধর্ম ও রামের পূজারি নামে এক সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে পুরো অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াই খারিজের আরজি জানিয়েছে। বলা হয়েছে, জমি যেহেতু রাজ্যের এক্তিয়ারে তাই কেন্দ্রের এই জমি অধিগ্রহণের কোনও অধিকার নেই। এর আগে অন্য রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এধরনের আবেদন খারিজ করে দিলেও নয়া আরজিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের অধিগ্রহণের বিষয় নিয়ে আগের রায়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে রামমন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে। তার কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই মামলার নিষ্পত্তিতে সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠিত হয়েছে। সেই মামলার নিষ্পত্তির আগেই মোদী সরকার সরাসরি এই জমি রামজন্মভুমি ন্যাসের তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। রামমন্দিরের ইস্যু নিয়ে জিগির তুলতে সঙ্ঘ বাহিনীকে সাহায্য করতেই এসব মামলা হচ্ছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।