টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র এসে গেলে কি রাজতন্ত্রের শামিল হয়ে যায় ! এই ভাবনায় কার্যত ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে খানিকটা ভাবিয়েছে জনতাকে। বিশেষত বিজেপি সহ এনডির পরিবারতন্ত্র বিরোধী বিচার মানুষের মনে দাগ কেটেছে, তা প্রমাণ করে দিয়েছে আমেথি থেকে গুনা। আমেথিতে গান্ধী বংশের একাধিপত্য কার্যত ধরাশয়ী হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে গুনা, বামমেড়ও একই বার্তা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি বিরোধী শিবিরের একাধিক রাজনৈতিক নেতার সন্তানদের হার সপ্তদশ লোকসভা ভোটে বেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আমেথি রাহুল সহ গান্ধীদের গড় বলে পরিচিত ছিল।কিন্তু উত্তরপ্রদেশের সেই আমেথির মাটিই কার্যত কংগ্রেসকে কাঁদিয়ে ছেড়েছে ঊনিশের লোকসভা ভোটে।বিজেপির স্মৃতি ইরানি ধ্বংস করে দিয়েছে গান্ধী আবেগের দুর্গ। পাশাপাশি আমেথির জনতাও সম্ভবত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ভারতে পরিবারতন্ত্র মেনে রাজনৈতিক আবেগ কোনও কাজে লাগবে না।

দেশের একাধিক জায়গায় বিজেপির প্রচার চালানোর সময় বারবার বলে এসেছে, এদেশে পরিবারতন্ত্র মনে না।সেই হিসাবেই মধ্যপ্রদেশের গুণাই সিন্ধিয়া রাজবংশের সন্তান জ্যোতিরাদিতো সিন্ধিয়া এই প্রথম হেরে গেলেন। যে গুণা কেন্দ্রটি একটা সময় দাপটের সঙ্গে কংগ্রেস জিতে এসেছিলে।আর আগে এই কেন্দ্র জ্যোতিরাদিত্বর বাবা মাধব রাওকে কখনও হারায়নি। অন্যদিকে ,কংগ্রেস যোগ দিয়ে রাজস্থানের বারমেঢ থেকে লড়াই করছিলেন যশবন্ত সিংহের ছেলে মানবেন্দ্র। তিনিও এবার পরাজিত।

কংগ্রেসের মুরলী দেওয়ার ছেলে মিলিন্দ লড়ছিলেন মুম্বাই দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে,তার মহারাষ্ট্রের আরও এক দাপুটে কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চ্যবনও নানদেদ কেন্দ্র থেকে হেরে যান। প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের দাপুটে নেতা শঙ্কররাও চ্যবনের ছেলে অশোকের এই হারও বিরোধীদের কড়া বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর ছেলে নিখিলকে ১ লক্ষ ভোটে মাণ্ডেয় আসনে পরাজিত করেন নির্দল পার্থী। নিখিল কংগ্রেস জোটের শরিক জেডিএস-র তরফে লড়ছিলেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থের ও একই হল হয়েছে মাভেল কেন্দ্র থেকে।