টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ দোকান – বাজার । নিত্যপ্রয়ােজনীয় পণ্যে ছাড় দেওয়া হলেও তা সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না। দু – তিন ঘণ্টা করে খােলা থাকছে বাজার। ফলে খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে যখন শিশুরা খাদ্যের অভাবে মাটি খাচ্ছে , তখন অসমের বাজারগুলিতে বিরাট ভিড় । বিজেপি শাসিত অসমে সাধারণ মানুষ প্রয়ােজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে বলে  অভিযােগ।

অভিযােগ , পুলিশ একটি বাজার বন্ধ করতে এলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা পাথর ছুড়তে শুরু করে। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। শূন্যে গুলি চালায় পুলিশ। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান , অসমের বনগাইগাঁওয়ে একটি বাজারে প্রচুর ক্রেতা ভিড় করায় পুলিশ সেই বাজার বন্ধ করে দিতে গেলে পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাধ্য হয় শূন্যে গুলি চালাতে।

বনগাইগাঁওয়ের পুলিশ সুপার সিংহ রাম মিল্লি বলেন , বনগাইগাঁও শহর থেকে তিন কিলােমিটার দূরে বড়বাজার এলাকায় একটি পুলিশ টিমকে আক্রমণ করা হয়। ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কথায় , পুলিশ টিমটি সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বলছিল ব্যবসায়ীদের। সেইমতাে বাজার বন্ধ করে দেওয়ার পর কয়েকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভিড় জমে যায়। তারা পাথর ছুড়তে শুরু করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে গুলি চালাতে হয় পুলিশকে। আট রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে শুক্রবারও বাজার বন্ধ করতে এসে জনতার হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছিল পুলিশকে। নিম্ন অসমের ধুবড়িতে ফালিমারি বাজারে গিয়ে পুলিশ লকডাউন করতে গেলে স্থানীয় জনতা বাধা দেয়। পুলিশের উপর আক্রমণ করে। এতে এক সাবইন্সপেক্টর , এক কনস্টেবল সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হন। পুলিশের বক্তব্য , সব ধরনের দোকান খােলা হয়েছিল। সেটা বন্ধ করতে গেলে গণ্ডগােলের সূত্রপাত।

পুলিশের এডিজি জি পি সিং বলেন , দুই নাবালক সহ আটজনকে ধুবড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে , বনগাইগাঁও থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লকডাউন ভাঙার চেষ্টার অভিযােগে এখনও পর্যন্ত পুলিশ মােট ২৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে। সৌজন্য- (পুবের কলম)