টিডিএন বাংলা ডেস্ক : নাগরিকত্ব বিল বিরোধিতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা দেওয়ার প্রস্তাবেরও প্রবল বিরোধিতা করল আসু। তাদের সাফ কথা, ভিসা তো বটেই, হিন্দু-বাংলাদেশিদের রক্ষণাবেক্ষণ দিতে কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি, নাগরিকত্ব বিল, কোনওটাই মেনে নেওয়া হবে না।
আসুর সভাপতি দীপাঙ্ক নাথ বলেন, গত শুক্রবার বিধানসভায় আসাম চুক্তি এবং চুক্তির ৬ নং দফা কোনও কারণেই সংশোধন করা হবে না বলে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। ঠিক দু’দিন পর সোমবার হিন্দু বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে সোনোয়াল সরকারের ষড়যন্ত্রের কথা বেরিয়ে এসেছে বিধানসভায়।
সভাপতি নাথ বলেন, হিন্দু-বাংলাদেশিদের রক্ষনাবেক্ষণ দিতে ২০১৫ সালে কেন্দ্রের জারি করার নির্দেশনাকে সমর্থন করে হাইকোর্টে হলফনামা দাখিল করেছে সোনোয়াল সরকার। যা কোনও অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকারকে এই জাতিধ্বংসী হলফনামা প্রত্যাহার করা উচিত – দাবি আসু সভাপতির।
আসুর সাধারণ সম্পাদক লুরিনজ্যোতি গগৈ বলেন, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ হিন্দু নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে দু’টি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র সরকার। আর এই দু’টি বিজ্ঞপ্তির মধ্যে একটি ছিল ভিসা আইন, আর অপরটি হলো বিদেশি আইন। আর সরকারের এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কম প্রতিবাদ হয়নি।
কিন্তু এর পরও জনগণের প্রতিবাদ তোয়াক্কা না করে সংসদে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬ উত্থাপন করেছিল সরকার। আর এই বিলকে ঘিরে প্রতিবাদের জোয়ারে বাধ্য হয়ে সরকার জেপিসি গঠন করে। বর্তমানে শুনানি চলছে জেপিসি-র। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে কৌশলে সেই বিজ্ঞপ্তি দু’টি কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
সবচেয়ে আশ্চর্য যে, কেন্দ্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সোনোয়াল সরকারও বিজ্ঞপ্তি দু’টি কার্যকর করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এমনকি জনগণকে অন্ধকারে রেখে সোনোয়াল সরকার আদালতে হলফনামাও দাখিল করেছে। আর সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ এক কথায় আত্মঘাতীমূলক। তাই খিলঞ্জীয়া মানুষের স্বার্থে ‘জাতিধ্বংসী’ এই হলফনামা প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত সরকারের – দাবি গগৈয়ের।  তার সাফ কথা, আসাম এবং খিলঞ্জীয়ার স্বার্থ পূরণে আসাম চুক্তিই শেষ কথা।