টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বক্সি কা তলব-এর বাসিন্দারা ব্যাপারটার মধ্যে কোনও বিশেষত্ব দেখতে পান না। সারা দেশে ধর্ম নিয়ে হানাহানি, মারামারির কথা কি তাদের মহল্লা পর্যন্ত পৌঁছায় না? পৌঁছায় বৈকি! কিন্তু তাঁরা দরজা বন্ধ করে ভ্রম রুখে দেন। ধর্ম এখানে এক সুতোয় বাঁধা। ধর্মের নামে এখানে ভ্রম নেই। হিন্দু-মুসলমানদের হাত ধরাধরি আছে লখনউয়ের এই মহল্লায়। আর তাঁদের এই সংহতি এই ভীষণ অস্থির পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গোটা দেশের কাছে এক নতুন বার্তা নিয়ে যেতে পারে।

বক্সি কা তলব এলাকায় রামলীলা হয় ১৯৭২ থেকে। আর এখানকার মঞ্চে প্রতিবার রামলীলা আয়োজিত হয় মোঃ সাবির খানের পরিচালনায়। রাম, সীতা, হনুমান, রাবণের ভূমিকায় অভিনয়ও করেন গোটা একটা মুসলমান পরিবারের সদস্যরা। সাবির খান বলছিলেন, ‘১৩ বছর বয়স থেকে আমি এই রামলীলায় অংশ নিচ্ছি। আমাদের তিন পুরুষ রামলীলা অভিনয় করেছে। আমাদের রামলীলায় হিন্দু-মুসলমানের কোনও ভেদাভেদ নেই। ঈশ্বর তো আমাদের হিন্দু-মুসলমান হিসেবে আলাদা করে দেয়নি। আমরা নিজেরাই আলাদা করে নিয়েছি। আমরা সবাই ভুলে যাচ্ছি, আমরা সবার আগে মানুষ।’

সাবির খান, তাঁর দুই ছেলে ও নাতি নাতনিরা প্রতিবারের মতো এবারও রামলীলায় অংশ নেবেন। ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে নবরাত্রি, চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময় বক্সি কা তলব একসঙ্গে মিলে নবরাত্রি পালন করে। সেখানে হিন্দু-মুসলমানের ভেদাভেদ নেই। জাত-পাতের সংস্কার নেই। উৎসব এখানে সবার।