লখনউতে নদওয়াতুল উলুমের ছাত্রদের রক্তদান – ছবি : প্রতিকী

সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : ‘জঙ্গি কারা বুঝুক দেশ! পাঞ্জাবের সবকটি মাদ্রাসায় জরুরীকালীন ঘোষণা, রেল দুর্ঘটনায় আহতদের রক্ত দিচ্ছে পড়ুয়ারা’ – গতকাল (রবিবার) এই শিরোনামে একটি খবর করেছিল টিডিএন বাংলা। সেই খবর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল সাইটে। টিডিএন বাংলার পাশাপাশি ক্যারাভান ডেইলি সহ জাতীয় স্তরের কিছু মিডিয়া এই খবর প্রকাশ করেছিল। এরপরই ওই মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজ্য তথা দেশের মুসলিম নেতাদের।

সোশ্যাল সাইট নেটিজেনরা টিডিএনের খবর শেয়ার করে লেখেন, প্রায় সময়ই মাদ্রাসগুলির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকে। কখনও বলা হয় সমাজবিরোধী কাজ কারবার হয় এই মাদ্রাসায়, আবার কখনও জঙ্গি তৈরির কারখানা উপাধি দিয়ে দেওয়া হয় চোখবুজে। কিন্তু পাঞ্জাবের অমৃতসরে ঘটে যাওয়া রেল দুর্ঘটনায় আহতদের রক্ত দিতে এগিয়ে এলো সেই মাদ্রাসগুলিই। কিছু সোশ্যাল সাইট ব্যবহারকারীর কথায়, ‘রক্ত দিয়েও আমাদের উপর সেই জঙ্গি তকমা থেকেই যাবে।’
এদিকে মাদ্রাসা ছাত্রদের এহেন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের মহিলা নেত্রী নায়েমা আনসারী টিডিএন বাংলাকে বলেন, ‘অনেকেই অপবাদ দিয়ে থাকেন মাদ্রাসা ছাত্ররা গোঁড়া, সামাজিকতা জানেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। সন্ত্রাসী তকমার কথা না হয় বাদই দিলাম। মাদ্রাসার ছাত্ৰরা যে কতটা সামাজিক তা অমৃতসরে রক্তদানের ঘটনাই বয়ান করে দিচ্ছে। এই মাদ্রাসা ছাত্ররা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ নিয়েছিল। কাজেই এধরনের অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, এই দেশের মাদ্রাসা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। দেশের কিছু বিভাজনকারী মানুষ এইসব অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজ করে চলেছে।
সম্প্রতি রমযান মাসের রোজা রেখেই রক্তদান করে শিরোনামে এসেছিলেন কলকাতার মেটিয়াব্রুজ এলাকার এক সাহসী যুবক ইমাম আলী মোল্লা। অমুসলিম মেয়ে সৃজিতার জন্য রক্তদান করে ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবতার নজির গড়া ইমামও পাঞ্জাবের মাদ্রাসগুলির দেদার প্রশংসা করেছেন। ইমামের কথায়, অনেক মুসলিম আজও রক্তদান নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন। তারা ভাবেন ইসলাম বুঝি রক্তদানে অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু পাঞ্জাবের মাদ্রাসাগুলি সেই কুসংস্কার দূর করে দিয়েছে। মাদ্রাসার জঙ্গি তকমা নিয়ে ইমাম বলেন, ‘অপপ্রচারকারীরা ভুলভাল প্রচার করে যাবে। তাঁদের কথায় কান দেওয়ার কিছু নেই। এই মহৎ কাজের জন্য মাদ্রাসগুলিকে স্যালুট। মাদ্রাসা না হয়ে অন্য কোনও সংগঠন হলেও আমি একই মন্তব্য করতাম।’

এই একই ইস্যুতে মন্তব্য করেছেন মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য তথা জমিয়ত আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় সভাপতি আসগর আলী বিন ইমাম মেহেদী সালাফী। তিনি টিডিএন বাংলাকে বলেন, ‘অনেকের কাছে মাদ্রাসা ছাত্রদের এই রক্তদান নতুন এবং অভিনব মনে হচ্ছে। কিন্তু না, মাদ্রাসাগুলি বহু আগে থেকেই এইধরনের সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছে। আমরা হিন্দু-মুসলিম বুঝিনা। আমরা শিখেছি একজনের প্রাণ বাঁচালে সমগ্র মানব জাতিকে বাঁচানোর সমান। আমি নিজেও মাদ্রাসার ছাত্র, পবিত্র কুরআন আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে। আর কে কি তকমা দিল ওসব ভেবে লাভ নেই। মানুষ ভুল ঠিকের বিচার করতে শিখে গেছে।’

উল্লেখ্য, অমৃতসরে দশেহরার দিন রাবণ দহনের সময় ঘটে যাওয়া রেল দুর্ঘটনার পর পাঞ্জাবের সবকটি মাদ্রাসায় জরুরীকালীন ঘোষণা দিয়ে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ বলেছিল তারা এই রেল দুর্ঘটনায় আহতদের রক্তদান করবে। গত শনিবার থেকে রক্তদান শুরুও করে দিয়েছে ওই মাদ্রাসগুলির পড়ুয়ারা। জানা গিয়েছে মাদ্রাসগুলি তাদের ছাত্রদের জন্য জোরালো আল্টিমেটাম জারি করে রক্তদানের নির্দেশ দিয়েছিল।

Not available