টিডিএন বাংলা ডেস্ক : জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির একদা জোট সঙ্গী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, জামায়াতে-ইসলামি (জেইআই) জন্মু ও কাশ্মীরের উপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে এটির বিপজ্জনক পরিণতি হবে।

সংবাদ সংস্থা আইএএনএস এ খবর প্রকাশ করেছে। শনিবা গণমাধ্যমকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি কোন মতাদর্শ বা ধারণা কারাগারে রাখতে পারবেন না। জামায়াতের সাথে জড়িত গ্রাম ও শহরগুলিতে হাজার হাজার কাশ্মীরি রয়েছে। এটি সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠন। পিডিপি প্রধান জানান,’জামায়াত-চালিত স্কুলের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় একটি জায়গা দখল করেছে। আপনি তাদের স্কুল বন্ধ করার পরে এই শিশুদের কী হবে?”

তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে, বিজেপি জম্মু ও কাশ্মীরকে খোলা কারাগারে রূপান্তরিত করছে। মেহবুবা আরও বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে ক্ষমতায় থাকাকালীন বিজেপির এই পদক্ষেপগুলি প্রতিহত করেছি।”

পিডিপি-বিজেপি জোটের সাথে ক্ষমতায় থাকার সময় মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসাবে জঙ্গিদের সাথে জামায়াত কর্মীদের সংযোগ সম্পর্কে তিনি কোনও ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট পাননি বলেও জানান প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবরে বলা হয়েছে, পিডিপি সভাপতি বলেন, কাশ্মিরের “দরিদ্রদের সাহায্যের জন্য জড়িত সামাজিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, কিন্তু লিঞ্চিং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দেশে শিবসেনা, জন সংঘ, আরএসএস আছে যারা মানুষকে এক ধরনের মাংস খাওয়ার নামে লোকেদের লিঞ্চিং করছে, কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হইনি । কিন্তু, দরিদ্র ও চলমান স্কুলের সাহায্যকারী সংস্থাটি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে এবং এর কর্মীদের কারাগারে রাখা হয়েছে। আমরা এটি সমর্থন করি না। তার ফলাফল বিপজ্জনক হবে।

মেহবুবা মুফতি জম্মু ও কাশ্মীরকে কারাগারে পরিণত না করার জন্য কেন্দ্রকে আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন, “আপনি একটি মতাদর্শকে কারাগারে রাখতে পারবেন না, আমরা গণতান্ত্রিক দেশে এবং গনতন্ত্রের মধ্যে বাস করি,এখানে ধারণাগুলির যুদ্ধ হয়। আপনার যদি ভাল ধারণা(আইডিয়া) থাকে, তবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করুন, কিন্তু জন্মু কাশ্মীরকে জেলে পরিণত করবেন না।

সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত স্কুলসহ জামায়াত নেতার সম্পত্তি সীলমোহর করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং তা করা উচিত ছিল না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”এটি দুর্ভাগ্যজনক যে এই স্কুলগুলি দরিদ্রদের শিক্ষা দিচ্ছে। তাদের শিক্ষার্থীরা মেধাবী। এই সব শিক্ষার্থী তাদের স্কুল নিষিদ্ধ করার পরে কোথায় যাবে। তারা আমাদের ভবিষ্যতের সাথে খেলছে এবং এটি খুবই ভুল। তাদের শাখা সংগঠন নিষিদ্ধ করা উচিত (আরএসএস) যেখানে তলোয়ার প্রদর্শিত হয়। জামায়াত কোনও তলোয়ার বহন করেনা।