টিডিএন বাংলা ডেস্ক : আসন্ন ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করে বিজেপি বিরোধী শিবির গড়েছে শাসক বিরোধী দলগুলি। লক্ষ্য একটাই বিজেপিকে দিল্লির মসনদ থেকে উৎখাত করা। রবিবার আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের ডাকে পাটনার গান্ধী ময়দানে বিজেপি বিরোধীগুলির বৈঠকে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, শরদ যাদব, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সিপিআই নেতা ডি রাজাও, কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ সহ অন্যান্যরাও।

এদিনের ভাষণে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন মমতা। সভায় বক্তৃতা রাখতে গিয়ে মোদী সরকারের অচ্ছে দিনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০১৪ সালে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে দেশে অচ্ছে দিন নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। তিন বছর কেটে গেল মানুষ অচ্ছে দিন দেখতে পায়নি। উল্টে মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার কৃষকের। এমনকি সব রাজ্য সামলাতেও তিনি ব্যার্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন মমতা। এদিনে উপস্থিত বিশাল জনতার সমাবেশকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, জনতার ঢলই বলে দিচ্ছে তাঁরা কী চান। আগামী নির্বাচনে বিহারে নীতীশ আর বিজেপির কোনও অস্তিত্ব থাকবে না বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বিহারের মানুষ নীতীশকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে লালুর পাশে এসে দাঁড়াবেন। সারদা ও নারদা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও মন্ত্রীদের গ্রেফতারি প্রসঙ্গেও বিজেপি সরকারকে এক হাত নিয়েছেন তিনি। মমতা বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার চলছে অফ দ্য এজেন্সি, ফর দ্যা এজেন্সি অ্যান্ড বাই দ্যা এজেন্সির সৌজন্যে। তাই কথায় কথায় আমাদের সাংসদদের জেলে পুড়ে দিচ্ছে। বিজেপি দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তা আমরা হতে দেব না। বিজেপি তাঁর কটাক্ষ, আগে উনিশ ভাবুন পরে বাইশ ভাববেন। তিনি পাটনা মঞ্চ থেকে স্মরণ করিয়ে দিলেন সত্তর দশকের কথা। বললেন, গত সত্তর দশকে দেশে জরুরি অবস্থার সময় নটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছিল ততকালিন সরকার ইন্দিরা গান্ধীকে। ঠিক তেমনই বিজেপিকেও নোটবন্দির কারণে কেন্দ্র থেকে পিছু হঠতে হবে। ডেরা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংকে শুক্রবার স্বাব্যস্ত করে সিবিআই হাইকোর্ট। সেই নিয়ে পঞ্চকুলা সহ হরিয়ানা পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশে যে হিংসাত্ত্বক অশান্তি চালায় ভক্তগণ। এমনকি ১৪৪ ধারা অমান্য করে তারা। ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩১ জনের। হরিয়ানা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতেই নীতিশ কুমারকে খারাপ চাচা বলে আক্রমণ করেন প্রাক্তণ উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। একইসঙ্গে এদিনের সমাবেশ থেকে লালু প্রসাদ যাদবের গলায় নীতীশ কুমারকে একপ্রকার বিশ্বাস ঘাতক কথাও উঠে এসেছে। নীতিশের সঙ্গে আগেই বিজেপির যোগ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকি রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী মিরা কুমারের হারের জন্য নীতিশকেই কাঠগোড়ায় তুলেছেন তিনি। তবে এদিন বেনামী সম্পত্তি নিয়ে বিশেষ কিছু মুখ খোলেননি লালু। শুধু বলেছেন তাঁর সম্পত্তির হিসেব সবার জানা। এতে লুকোনোর কিছু নেই।