টিডিএন বাংলা ডেস্ক : উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের ক্রীতদাসের মতো ভোট ব্যাংকে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ওলামা পরিষদ।

বিজেপিকে রুখতে সম্প্রতি উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির (এসপি-বিএসপি) মধ্যে যে জোট হয়েছে তাতে মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব না থাকায় জাতীয় ওলামা পরিষদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

জাতীয় ওলামা কাউন্সিলের প্রধান মাওলানা আমীর রাশাদি উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষনৌতে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নামে প্রতিষ্ঠিত ওই তথাকথিত জোটে, যদি কেউ নিজেকে প্রতারিত অনুভব করে তবে সেটা হল মুসলিম সমাজ। কারণ, কয়েক দশক ধরে মুসলিম সমাজ ঐতিহ্যগতভাবে এসপি-বিএসপিকে ভোট দিয়েছে এবং বিগত সত্তর বছর ধরে একনাগাড়ে ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। সেজন্য ওই জোট থেকে মুসলিম নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে দূরে রাখা এসপি-বিএসপি’র পক্ষে মুসলিম নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিদ্বেষের প্রতিফলন এবং সামাজিক সুবিচার ও মূল্যবোধবিরোধী।’

তিনি বলেন, এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব ও বিএসপি প্রধান মায়াবতী নিজেদের মধ্যে ৩৮ টি করে আসন ভাগাভাগি করেছেন। কিন্তু ২২ শতাংশ মুসলিম সমাজের নেতাদের কোনও অংশ না দিয়ে কেবল ‘বিজেপির ভয় দেখিয়ে’ তাঁদের ভোট নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু মুসলিম সমাজ এখন রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠেছে এবং ভয় ভীতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্বের জন্য সচেতন হয়েছে।’

বিএসপি প্রধান মায়াবতীর উদ্দেশ্যে মাওলানা আমীর রাশাদি বলেন, জনসংখ্যার শতাংশের ভিত্তিতে মুসলিম নেতৃত্বাধীন দলের জন্য ১৬টি আসন বা কমপক্ষে ১০টি আসন ছেড়ে দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু মুসলিম সমাজের নেতাদের জন্য ২টি আসনও ছাড়া হয়নি। গত ১২ জানুয়ারি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মায়াবতী ‘মুসলিম’ শব্দ মুখে উচ্চারণ করলেও অখিলেশ যাদব সকল সম্প্রদায়ের উল্লেখ করলেও ‘মুসলিম’দের নাম উল্লেখ থেকে বিরত থেকেছেন।’ এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব গত ২০১৭ সাল থেকে ‘মুসলিম’ নাম মুখে আনা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও মাওলানা আমীর রাশাদি মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশে ৮০ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৪ টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন হিসেবে বিবেচিত হয়। এদের মধ্যে বেরেলি, বাদায়ুন, পিলিভিট, রামপুর, সম্ভল, আমরোহা, মীরাঠ, মুজাফফরনগর, সাহারানপুর, বিজনৌর, আমরোহ, মুরাবাদাবাদ, আজমগড়, বাহরাইচ, গোন্ডা, শ্রাবস্তি, বারাণসী, ডুমরিয়াগঞ্জ ও বালরামপুর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।