টিডিএন বাংলা ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বিজেপিকে জিততে সাহায্য করেছে আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল এআইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলিমিন)। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর এমনই অভিযোগ আনলেন কংগ্রেস মহাসচিব দিগ্বিজয় সিং। এক ট্যুইটে তিনি বলেন, তার দল নিজে কোন আসন না জিতলেও বিজেপিকে জয় পেতে সাহায্য করেছে।

প্রায় সবসময়ই আসাদউদ্দিন ওয়েসির উপর এই অভিযোগ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এইবারের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হওয়ার পর থেকে তা আরও বেড়ে গিয়েছে। যদিও ওয়েসি দিগ্বিজয় সিংয়ের মন্ত্যব্যকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তার কথায় কান দেবেন না। তিনি একটি জোকার।”
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে মোট ৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল মিম এবং সবগুলিই ছিল মুসলিম প্রধান এলাকার আসন। এইজন্যই নাকী মুসলিম প্রধান আসনগুলিতে নির্বাচন জেতা সহজ হয়ে যায় বিজেপির।
মুরাদাবের অন্য একটি আসন কাঁঠে বিজেপির রাজেশ কুমার ৭৬,৩০৭টি ভোট পেয়ে সপার আনিসুর রহমানকে মাত্র ২৩৪৮টি ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করেন। মীমের ফিজলুল্লাহ চৌধুরী ২২,৯০৮টি ভোট কেটে বিজেপির জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ঢাঁডা বিধানসভা আসনে আজীমুল হক পালোয়ান বর্তমান এমএলএ। কিন্তু এইবার সঞ্জু দেবী এখান থেকে ১৭২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে মিম প্রার্থী পেয়েছেন ২০৭০ ভোট। এখানে সঞ্জু দেবী ৭৪,৭৬৮ ভোট পেয়েছেন এবং আজিমুল হক পেয়েছেন ৭৩,০৪৩।
গেনসারি বিধানসভা এলাকায় বিজেপির এস কুমার সিং ৫৫,৭১৬টি ভোট পেয়ে ২৩০৩টি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বসপার আলাউদ্দিন ৫৩৪১৩টি ভোট পান। কিন্তু মিমের প্রার্থী মঞ্জুর আলম খান ৩১৬০ ভোট পান। এইখানে মিমের প্রার্থী না থাকলে বসপা প্রার্থীর জয় নিশ্চিত ছিল।
সরস্বতী বিধানসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী রাম ফেরহান ৭৯৪৩৭ ভোট পেয়ে মাত্র ৪৪৫টি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী সপার মোহাম্মদ রমজান ৭৮৯৯২টি ভোট পান। এখানেও মিম প্রার্থী ২৯৩৩টি ভোট পেয়ে বিজেপির জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়াও উতরোলা আসনে সপা, বসপা এবং মিমের মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার কারণে বিজেপির হিন্দু প্রার্থী রামপ্রতাপ বিশাল ব্যাবধানে জয়ের শিলমোহর লাগাতে সক্ষম হন। মিমের দেওয়া আসনগুলিতে এমনও হয়েছে যেখানে মাত্র কয়েক ভোটের ব্যবধানে হার জিত নির্ধারিত হয়েছে, যে ভোটগুলি মিমের খাতায় না পড়লে বিজেপির জয় অসম্ভব ছিল।
এর আগেও দিগ্বিজয় সিং আসাদউদ্দিন ও আকবরউদ্দিন ওয়েসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন যে তারা বিজেপির সাহায্য করছেন।