টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরেই হিংসার আগুনে জ্বলছে রাজধানী দিল্লি। এপর্যন্ত হিংসার বলি হয়েছে ৪২ জন মানুষ। যার মধ্যে একজন পুলিশ কর্মী ও একজন গোয়েন্দাও রয়েছেন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে মসজিদ দরগা। পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে দোকান বাড়িঘর। রাস্তায় ধরে ধরে ও বাড়ি বাড়ি ধুকে মারধর করা হয় একাধিক মানুষকে। এমনকি ছাড় পায়নি পূর্ণ গর্ভবতী মহিলাও। কারাওয়াল নগরে পূর্ণ গর্ভবতী বছর তিরিশের শাবানা পারভীনের তলপেটে লাথি মেরেছিল দাঙ্গাবাজরা।

সুত্রের খবর, সোমবার গভীর রাতে দুই সন্তান, স্বামীর সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন শাবানা। আচমকাই তাঁদের বাড়ি ঘিরে ফেলে জনতা। শাশুড়ি নাসিমার কথায়, সবাই মারধর করতে থাকে তাঁর ছেলেকে। লাথি মারে গর্ভবতী বউমার তলপেটে। সবাই ভেবেছিল, সেদিন পরিবারের কেউ বাঁচবে না। কিন্তু আল্লা রক্ষা করেছেন তাঁদের। তাঁর বউমার গর্ভের সন্তানকেও। গর্ভস্থ সন্তানকে বাঁচাতে এরপরেই শাবানাকে ভর্তি করা হয় আল হিন্দ হাসপাতালে। সেখানেই বুধবার সুস্থ-সবল সন্তানের জন্ম দেন শাবানা। সবাই সদ্যজাতের নাম দিয়েছে মিরাকল বেবি। যদিও পরিবারের সদস্যদের মুখ থেকে এখনও সরেনি আতঙ্কের ছায়া।

শাবানার পরিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত দু-দশক ধরে দিল্লিতে বসবাস করছেন তাঁরা। কিন্তু কোনোদিন এমন আক্রমণের শিকার হননি। দিল্লির হিংসা থেকে প্রাণে বাঁচলেও ঘর হারিয়েছেন তাঁরা। শাবানাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার পর কোথায় যাবেন তাঁরা! ঘর পুড়ে ছাই। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। হয়ত কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেবেন কিছুদিন। তারপর আবার নতুন করে ঘর বানানোর তোড়জোড় করবেন। একদিনের ছেলে কোলে হতাশ জবাব মিরাকল বেবির বাবার। আর সেই কারনেই নতুন সদস্য আসার পরেও হাসি ফোটেনি শাবানার শাশুড়ির ও পরিবারের বাকি সদস্যদের মুখে।