টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল বলে ঘোষণা করেছিল মোদী সরকার। যার মূল কারণ ছিল জালনোট কারবারিদের রুখে দেওয়া। কিন্তু জালনোট রুখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। রিপোর্ট বলছে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের পর থেকে সবথেকে বেশি জাল উদ্ধার হয়েছে মোদীর রাজ্য গুজরাটে। এবার সামনে এলো আরও এক তথ্য যা শুনে আপনি রীতিমত অবাক হয়ে যাবেন। গুজরাটের এক মন্দিরের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে জালনোট ছাপার যন্ত্র। সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ২০৩টি ২০০০ টাকার জাল। যার মূল্য ৪.৬ লক্ষ টাকা। পুলিশ গ্রেফতার করেছে মন্দিরের পুরোহিত সহ মোট ৫ জনকে। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের খেড়া জেলার অম্বাও গ্রামের স্বামীনারায়ণ মন্দিরে।

জানাগেছে, রবিবার সুরার ক্রাইম শাখার একটি দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খেদার অম্বাও গ্রামে একটি নির্মানাধীন ‘স্বামী নারায়ণ’ মন্দিরে গেলে তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। কারণ মন্দিরের ভিতর রয়েছে জালনোট ছাপার যন্ত্র। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্যাংয়ের প্রধান কর্তা প্রবীণ চাপেরা ও পুরোহিত রাধারমন স্বামী সহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য তিনজন হলেন, প্রতিকার চোদবদিয়া, কানু চোপড়া এবং অঙ্কলেশ্বরের মোহন মাধব। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে ২০৩টি ২০০০ জাল নোট ও একটি মুদ্রণযন্ত্র উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা মন্দিরের একটি ঘরের ভিতরে ২০০০ টাকার নকল নোট ছাপাতেন। সেই সাথে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে তার ৩৫,০০০ টাকা দামের মোবাইল ফোন এবং পাঁচ লক্ষ টাকা দামের গাড়িও। তারা প্রসাদের বাক্সে জালনোট গুলো সরবরাহ করত, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে এদের সাথে আর কে কে রয়েছে। এরা সারা দেশের মধ্যে কোথায় কোথায় জালনোট সরবরাহ করত।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী প্রবীনের সাথে মিলে বাকিরা মন্দিরে জাল নোট ছাপানো শুরু করেছিলেন। জানতেন কেউ এখানে সন্দেহজনক হবে না। একটি ঘরে একটি নোট প্রিন্টিং মেশিন, কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং স্ক্যানার তাঁরা এই কাজ চালাত। প্রবীণ নোট ছাপাতেন এবং বাকিরা সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় করত।

সুরত ডিএসপি (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) রাহুল প্যাটেল জানিয়েছেন, স্বামী রাধারমণ এলাকায় স্বামী হিসাবে পরিচিত। রাধারমন হলেন আশ্রমের অধিপতি। মন্দিরটি স্বামী নারায়ণ সম্প্রদায়ের ভডতলা মন্দিরের অধীনে। 4 বছর ধরে মন্দিরটি নির্মাণাধীন রয়েছে। গত দু’মাস ধরে, বাইরে থেকে লোকজন যাওয়া আসা করত। তবে ধর্মীয় স্থান হওয়ার কারণে কারও তেমন সন্দেহ ছিলনা।

গ্যাংয়ের মূল পরিকল্পনাকারী প্রবীণ চাপেরা এর আগেও জাল নোটের ক্ষেত্রে ১০ বার ধরা পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে গুজরাটে ১০ টি মামলা রয়েছে। রাজস্থান-মহারাষ্ট্র পুলিশও তাকে ধরেছে। তাঁর ছেলে কালুও এই ব্যবসায় নিযুক্ত ছিলেন। এই দুজনই স্বামীর ঘরে নকল নোট ছাপাতেন। প্রবীনের শ্যালক মোহন ওয়াঘুরদে, প্রেতীক চোদওয়াদিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রবীনের দ্বিতীয় ছেলে পলাতক রয়েছে। স্বামী রাধারমণ ১১ বছর বয়সে দীক্ষা নেন। তিনি যাওয়াল গ্রামের, জলগাঁও (মহারাষ্ট্র) থেকে এই মন্দিরে আসেন। তিনি ১৫-২০ বছর ধরে অম্বাও গ্রামে বসবাস করছেন।