টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ভোটের মরসুমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে অবাক করে দিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এবার সেই একই পথে হাঁটল বেইজিং। তাদের মতে, জনপ্রিয়তায় নেহরুকে ছাড়িয়ে গেছেন মোদী। প্রতিবেশী ২ দেশের মোদী বন্দনার কারণ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

কয়েক দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মন্তব্য করেছিলেন যে চলতি লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী জিতলেই চির বৈরী ভারতের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়ার সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। তাঁর মতে, বিরোধী কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে দক্ষিণপন্থীদের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সেভাবে শান্তির পথে এগোতে নাও পারে। ইমরানের শ্রেষ্ঠ বাজি তাই মোদী যাঁর সরকারের সঙ্গে মাসদুয়েক আগেই ইসলামাবাদের দেখা দিয়েছিল তীব্র সংঘাত, পুলওয়ামায় ভারতের আধা-সেনার উপরে সন্ত্রাসী হানার পরে।

মোদীর প্রতি ইমরানের এই সমর্থন দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন অনেকেই। এমনকী, ভারতে মোদীর বিরোধীরাও তাঁকে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

এই নিয়ে যখন প্রবল আলোচনা চলছে, তখনই উড়ে এল বেইজিংয়ের মোদী বন্দনা। জনপ্রিয়তায় মোদী ছাড়িয়ে গিয়েছেন নেহরুকেও, বলল চীন।

চীনের সরকার-চালিত ‘গ্লোবাল টাইমস’ ওয়েবসাইটের একটি মতামত-বিষয়ী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যদিও এবারে বিজেপি ফের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কী না তা এক্ষুনি বলা শক্ত, কিন্তু একথা অনস্বীকার্য যে মোদীর জমানাতেই ভারত দুনিয়ার চোখে উপরে উঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, যে চীনা সমাজে আগে ভারতের সম্বন্ধে লোকে তত আগ্রহ দেখাত না, সেখানে মোদীর জনপ্রিয়তা তাঁর পূর্বসূরিদের, এমনকী ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। চীনের ওয়েবসাইটটির দাবি, গত পাঁচ বছরে নানা চড়াই-উত্‍রাই পেরোলেও বেইজিং এবং নয়াদিল্লির মধ্যেকার সম্পর্ক অনেক উন্নত হয়েছে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদীকে নিয়ে যথেষ্ট উত্‍সাহ দেখিয়েছিল চীনা সংবাদমাধ্যম। জিতে আসার পর মোদী চীনের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় একাউন্ট খোলেন চীনের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্যে এবং তাতে এখানকার মানুষের চোখে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ে। মোদীর জন্যেই চীনের সংবাদমাধ্যম ভারতের উপরে আরও আগ্রহী হয়েছে, জানিয়েছে গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদনটি।

মোদী পরিষ্কার বুঝেছেন ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের গুরত্ব এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং-এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে যার ফলে শক্তপোক্ত হয়েছে ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও বলে জানিয়েছে লেখাটি।

নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ-এ ঢুকতে না পারার কারণে ভারতের চীনকে দোষারোপ করা বা রাষ্ট্রসংঘে জয়েশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের তরজা কিংবা দলাই লামার বারংবার ভারত সফরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। বলা হয়েছে, ওই ইস্যুগুলিতে চীনের বিরোধিতা না করে ভারতের উচিত ছিল সরাসরি বেইজিং-এর সঙ্গে কথা বলা যেটা তারা করেনি।