টিডিএন বাংলা ডেস্ক: শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরুর আগেই খোদ অমিত শাহর ফোন পেলেন দেবশ্রী চৌধুরী। বাংলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে প্রথম নামটা লেখা হল তাঁরই। আরএসএস এর ঘারানায় বেড়ে ওঠার সুবাদে তাঁর এই পুরস্কার প্রাপ্তি খানিক যেন নিশ্চিত ছিল। বালুরঘাটের এই মেয়ের ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু। এর পরে ধাপে ধাপে রাজনীতিতে উন্নতি এবং শেষপর্যন্ত ঠাঁই হতে চলেছে মোদী মন্ত্রিসভায়। দেবশ্রী চৌধুরীর গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই পরিচিত সঙ্ঘ পরিবারের মেয়ে হিসেবে। ডাকাবুকো নেত্রী না হয়েও সঙ্ঘ কর্তাদের স্নেহধন্যা দেবশ্রীর উন্নতিতে বরাবরই কাজ করে গিয়েছে তাঁর ওই পরিচয়।

সকালে শপথে ডাক পেয়ে বললেন, “দায়িত্ব বেড়ে গেল। ছোট থেকে যে আদর্শের জন্য কাজ করে চলেছি সেই কাজটাই করতে হবে। তবে অনেক বেশি মানুষের জন্য।” টেনশন হচ্ছে না? “ঠিক টেনশন নয়, তবে একেবারে স্বাভাবিকও নয়। আসলে নতুন করে অনেক কিছু শিখতে হবে। নতুন কিছু শেখার,করার আলাদা একটা আনন্দ যেমন আছে, তেমনই উদ্বেগও আছে। সেটাই হচ্ছে।”

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করার পরে নয়ের দশকের শেষ দিকে কলকাতায় আসেন দেবশ্রী। যোগ দেন আরএসএস-এর ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে। সেই সময়ে রাজ্য এবিভিপির দায়িত্বে ছিলেন আরএসএস-এর প্রচারক তপন ঘোষ। তাঁর কাছেই হাতেকলমে সাংগঠনিক কাজ শেখা। এর পরে সংগঠনের দায়িত্ব পান প্রচারক অমল চট্টোপাধ্যায়। সেই সময়েই কলকাতা জেলার সভাপতি হন দেবশ্রী। পরে অমল চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে গেলে দেবশ্রীও যোগ দেন বিজেপিতে। প্রথমে যুব মোর্চা ও পরে বিজেপি। একটা সময়ে একমাত্র নারী মুখ হিসেবে কখনও রাজ্য বিজেপি, কখনও মহিলা মোর্চার সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবারই যাবতীয় জল্পনার কারণ ছিল দেবশ্রীর সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠতা।

আসলে ছেলেবেলা থেকে সঙ্ঘ পরিবারের সান্নিধ্যেই বড় হয়েছেন দেবশ্রী। বিদ্যার্থী পরিষদ বা বিজেপির দুঃসময়েও অবিচল থেকেছে তাঁর আনুগত্য। জয় পেলে তিনি যে মন্ত্রী হতে পারেন সেটা অবশ্য আগেই জানা ছিল। রায়গঞ্জে প্রচারে এসে সেকথা দিয়ে গিয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। দেবশ্রী প্রথম নির্বাচনে লড়েন ২০১৪ সালে। বর্ধমান দুর্গাপুর আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার প্রার্থী হলেন রায়গঞ্জে। উত্তরবঙ্গের মেয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেই ছিনিয়ে আনলেন জয়। আর তাতেই মিলল পুরস্কার।