টিডিএন বাংলা ডেস্ক : রমযানে মুসলিম সরকারি কর্মীরা যাতে একটু আগে অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে পারেন, তার অনুমতি দিল তেলেঙ্গানা সরকার। ঘণ্টাখানেক আগে তারা অফিস থেকে বের হতে পারবেন। ইতিমধ্যে তেলেঙ্গানার কিন্তু সরকারি টিআরএস সরকার এরকম সার্কুলার দিয়েছে। তেলেঙ্গানার মুখ্যসচিব এসপি সিং জানান, সমস্ত মুসলিম সরকারি কর্মচারীকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরাও স্কুল শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে বাড়ি ফিরতে পারবেন। খুব জরুরী কাজ ছাড়া মুসলিম কৰ্মচারীরা একটু আগেই বাড়ি ফিরতে পারবেন।
রমযানে আলাদা করে এরকম সরকারি বিবেচনা অৰ্থে এই প্ৰথম। অমুসলিম সহকর্মীরা অনেক সময় মুসলিম সহকর্মীর কাজ লাঘব করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বেসরকারি বহু প্ৰতিষ্ঠানে একটা বিশেষ সময় দেওয়া হয় রোজা রাখা মুসলিম কৰ্মীদের জন্য, কিন্তু সরকারি নিৰ্দেশ এইভাবে দেওয়া হয় না। দীৰ্ঘদিন ধরে মুসলিম কৰ্মচারীরা রোযা রেখেই কাজ করে আসছেন। তার জন্য বিশেষ ছুটির কথা কোনও সরকারই চিন্তা-ভাবনা করেনি, রাজনৈতিক দলগুলোও এই ইস্যু নিয়ে বিশেষ সরব হয় না। বরং উৎসবের ছুটি নিয়ে বেশি উৎসাহী রাজনৈতিক শিবিরগুলি। সেখানে উৎসবকে রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যম করা হয়। কিন্তু রমযান কোনও উৎসব নয়। তা একটি সংযমের মাস। সরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটি থাকার কোনও দাবি জানায়নি। প্ৰতিবেশী বাংলাদেশে রোযার মাসে সরকারি স্কুলে কিছুদিন ছুটি দেওয়া হয়। এ কথা সত্য যে, কিছুদিন ছুটি পেলে তা রোজা রাখা মুসলিমদের জন্য খানিকটা বাড়তি পাওনা। কিন্তু মুসলিমরা কস্মিনকালেও এমন দাবি তোলেনি। কারণ, কোথাও আলস্যেরও কর্মবিমুখতার মধ্য দিয়ে রোযা পালনের কথা উল্লেখ নেই। তাই পানাহার বৰ্জন করে একমাস কাটানো এক্ষেত্রে কষ্টকর তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিছুদিন ছুটি পেলে অবশ্য সেই কষ্ট খানিকটা লাঘব হয়। তেলেঙ্গানা সরকার কেবলমাত্ৰ কৰ্মক্ষেত্ৰে ঘন্টাখানেক ছাড় দিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অনেকের মতে, এতেও আসলে রাজনীতিই রয়েছে। যে মুসলিম কৰ্মচারী সারাদিন কাজ করলেন, একঘণ্টা আগে তাকে ছুটি দেওয়া খুব একটা কাজের কথা নয়। বরং
রোযার মাসে কয়েকদিন ছুটি পেলে হয়তো তারা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। উল্লেখ্য, এযাবৎ দেশের কোনও রাজ্য সরকারই এই বিষয়ে মুখ খোলেনি।