টিডিএন বাংলা ডেস্ক : গত মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশে চলন্ত ট্রেনে কনস্টেবলের হাতে ধর্ষণের শিকার হন এক মুুুুসলিম মেয়ে। অভিযুক্ত কনস্টেবেলের জঘন্যতম অপরাধের পরেও বিজেপি শাসিত যোগীর রাজ্যের পুলিশ ঠিকমত ব্যবস্থা নেয়নি।

আর এনিয়ে আইনি ব্যবস্থার উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখলেন এক মহিলা। যে পুুুলিশ দেশের মানুষের রক্ষাকারী সে যদি ধর্ষকে পরিণত হয়, তার বিরুদ্ধে যদি সঠিক আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা ভরসা কাদের করব সে তার চিঠিতে প্রশ্ন করে।

সানা সিকান্দার নামের মহিলাটি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তার চিঠিতে লেখেন –
সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী মোদীজি,
প্রথমত, আমি আপনাকে জিডিপি বৃদ্ধি শেষ চতুর্থাংশের ৭% থেকে নিচে ৬.১% র জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। এখন, উত্তরপ্রদেশে অভিজাতক্ষমতাসীন শ্রেণীর বিকাশের আয়না প্রদর্শন করতে আমাকে অনুমতি দিন। ইন্ডিয়া টুডের অপরাধ সংঘটনের রিপোর্ট অনুুুুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে জানুয়ারি মাসের ২৮৬ জন থেকে মার্চ মাসে ৩৯৬ জন এবং এপ্রিলে বেড়ে হয়েছে  ৩৯৯ জন। ধর্ষনের ঘটনাও মার্চ মাসে ২৪৪ থেকে বেড়ে ৩৭৮ এবং এপ্রিল মাসে ৩৯৩ জন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে -http: //indatoday.intoday .in

একই ধরনের ধর্ষনের ঘটনা মঙ্গলবার ঘটেছিল, যখন একজন দেশের রক্ষক ধর্ষকে পরিণত হয় – যা ভারতীয় সংবিধানে অন্ধকারময় স্থান রুপে চিহ্নিত করা যায়।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি ২৫-বছর বয়সী মহিলা চণ্ডীগগড়-লখনউ এক্সপ্রেসে ভুল পথে চালিত হয়ে ট্রেনে উঠে পড়ে। কিছু কারণে তিনি অসুস্থ অবস্থায় অস্বস্তিবোধ করতে শুরু করেন।

হয়তো ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করা তার ভুল ছিল!

সে তার প্রতি বিশ্বাস করেছিল, যার হাতে রাষ্ট্রকে বাঁচাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যে দেশের বাসিন্দাদের রক্ষাকারী,অপরাধ শেষ করে এমন ব্যক্তিকে। মেয়েটির সব ভুল ছিল!’

মেয়েটি সাহায্যর দারস্ত হলে কর্তব্যরত ২৪-বছর বয়সী কনস্টেবল কুমার শুক্লা তাকে অক্ষমদের জন্য সংরক্ষিত বগিতে যাওয়ার জন্য উপদেশ দেয়। ট্রেন চাঁদপুর রেল স্টেশন থেকে প্রায় ৮টার দিকে পৌঁছায়।শুক্লা তখন মহিলাকে রিজার্ভ বগিতে নিয়ে যায়, যেখানে তিনজন যুবক বসে ছিল। এসপি অনুযায়ী, কনস্টেবল যুবকদের অন্য বগিতে

স্থানান্তরের জন্য বাধ্য করে এবং সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নারীটিকে ধর্ষণ করে!

এখন, কনস্টেবল শুক্লার ভিডিও মেরুদন্ডকে ঠান্ডা করে দেয়। এত জঘন্যতম অপরাধ করার পরও শান্তির সাথে পুলিশ স্টেশনে সে লাঞ্চ করে। এই ঘটনার ৪৮ঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেল। কিন্তু এই ঘটনার উপর আইনি অধিকারের কোন নজরদারি লক্ষ করা গেল না।

আপনার জন্য, এখানে অপরাধের দৃশ্য বর্ণনাকারী সাক্ষীদের একটি ভিডিও।

এই ক্ষেত্রে আমি প্রত্যেক মেয়ে নাগরিকের পক্ষ থেকে ‘ভারতীয় আইন প্রয়োগকারীদের কাছে একটি সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে চাই, “এখন আমাদের কাকে বিশ্বস করা উচিত?” অতএব, আমি বিনীতভাবে আপনাকে অনুরোধ করব যেন দেশের সার্বভৌমত্বের মুর্তিকে ছিন্নভিন্ন করে এমন আইন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দিকে নজর দিতে।
সানা সিকান্দার,

ভারতের নাগরিক