টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশে করোনা ছড়ানোর জন্য তাবলীগ জামাত তথা পুরো মুসলিম জাতিকে দায়ী করছিল বিজেপি ও এক শ্রেণীর মিডিয়া। কিন্তু অনেক আগেই প্লাজমা দান করে তাদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে তাবলীগ জামাত সদস্যরা। করোনা মোকাবিলায় সরকারী ফান্ড থেকে শুরু করে সমাজের মধ্যে কোটি কোটি টাকা দান করেছেন মুসলিমরা। এবার যাকাতের টাকাও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজে লাগালেন মুসলিমরা। মহারাষ্ট্রে যাকাতের ৩৬ লাখ টাকা দিয়ে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ দান করলেন মুসলিমরা। মুম্বাই থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রের ইচলাকরঞ্জি শহরে মুসলমানরা এই রমজানের যাকাতের সংগ্রহ করা ৩৬ লাখ টাকা দিয়ে একটি স্থানীয় হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ দান করে অনন্য নজির স্থাপন করলেন। উল্লেখ্য, যাকাত মুসলমানদের দান করা বার্ষিক সঞ্চয়ের 2.5% হয়। জানাগেছে, ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল (আইজিএম) সিভিল হাসপাতালের সেই ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ টি সোমবার মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে উদ্বোধন করেছেন।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ঠাকরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বলেন, “ইচলাকরঞ্জির মুসলমানরা দেশের প্রত্যেককে পথ দেখালেন। মুসলিম সম্প্রদায় কীভাবে একটি উত্সব উদযাপন করতে পারে তার একটি উদাহরণ স্থাপন করলেন তারা।” আইসিইউ সুবিধাযুক্ত প্রায় ৩ লক্ষ জনসংখ্যার ইচলাকরঞ্জিতে এটি প্রথম সরকারী হাসপাতাল, যেখানে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক বড় পদক্ষেপ নিলেন মুসলিমরা।

ইচলাকরঞ্জির মুসলমানদের সংগঠন সামস্ট মুসলিম সমাজ (এসএমএস) পবিত্র রমজান মাসে শহরের একমাত্র সরকারী হাসপাতালে একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ফান্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ আগে আইসিইউর রোগীদের অনেক দূরে কোলাপুর এবং সোলাপুরের মতো শহরে পাঠানো হত।

মুসলিমদের এমন উদ্যোগে আপ্লূত হয়ে আইজিএম সিভিল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সার্জন ডাঃ জাভেদ বাগওয়ান বলেন,  “এই শহরের মুসলমানদের দ্বারা এটি একটি দুর্দান্ত অঙ্গভঙ্গি। আমি অন্য কোথাও ভাবি না যে কোনও পুরো শহরের মুসলমানরা যাকাতের অর্থ ব্যবহার করে এই জাতীয় সুবিধাটিকে তাত্পর্যপূর্ণ যত্নের জন্য অর্থায়ন করতে ব্যবহার করেছে। এটি আমাদের করোনভাইরাসকে লড়াই করতে সহায়তা করবে”।

স্থানীয় পত্রিকা রেহবার টাইমসের সম্পাদক ও সামস্ত মুসলিম সমাজের সদস্য নাদিম আহমেদ বলেছেন, যাকাত তহবিলের জন্য সংগ্রহ করা ৩৬ লাখ টাকা অনুদানের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে একতা তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন,  “যাকাতের অর্থ এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক ছিল তবে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের শহরে সেরা উপহার হিসাবে গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছি। আশা করি এটি দীর্ঘকাল স্মরণে থাকবে”।

উল্লেখ্য, ইচালকরঞ্জি শহরের প্রায় তিন লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমরা মাত্র ১৫%। বর্তমানে মহারাষ্ট্র করোনার থাবা সবচেয়ে বেশি। যদিও ইচালকরঞ্জিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা একেবারে নগণ্য। তবে আগে ভাগেই সতর্কতার জন্য মুসলিমদের এমন উদ্যোগ সারা দেশে চিরকাল নজির হয়ে থাকবে।