টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আজ ৩১ আগস্ট অসমে প্রকাশিত হল নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা। এনআরসি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেসের অনেক নেতায়। অসমের প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, এনআরসি নিয়ে শুদ্ধ তালিকা প্রকাশে ব‍্যর্থ সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। এবার এনআরসি নিয় সংসদের বিরোধী নেতা সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী কেন্দ্র সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সরকারের প্রতি তোগ দেগে বলেছেন, “আমার বাবাও বাংলাদেশি ছিলেন, তাই আমাকেও বের করা হোক।”

এদিন অধীর রঞ্জন আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি এবং এনসিআর সহ গোটা দেশেই এনআরসি আনতে পারে। এটাও সম্ভব যে এই ব্যপারে আইন তৈরি করার জন্য সংসদে যে কোনও সময়ে প্রস্তাব পেশ করতে পারে। কোনও সত্যিকারের ভারতীয়কে বের করা উচিৎ নয়। ধর্ম নিরপক্ষে পদ্ধতিতে এনআরসি করা উচিৎ।

অসমে এনআরসির তালিকা প্রকাশের পরই দিল্লিতে এনআরসি করার দাবি করেন দিল্লি বিজেপির প্রধান মনোজ তিওয়ারি। রাজধানীতেও এনআরসির প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, দিনদিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা রাজধানীর জন্য ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এখানেও আমরা এনআরসি চালু করব।

তবে এটা নিয়েও আক্রমণ করতে ছাড়েনি অধীর। তিনি বলেন, “এনআরসি তো সামলাতে পারছে না এদিকে আবার গোটা দেশে এনআরসি চালু করার কথা বলছে।” এনআরসি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রুটিমুক্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অমিত শাহকে তোপ দেগে এনআরসি-র কড়া সমালোচনা করলেন অসমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুজায়ী আজ অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। ওই তালিকায় নাম বাদ পড়েছে ১৯,০৬,৬৫৭ জনের। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য আগেই বলেছে যে যাঁদের নাম চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পায়নি সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এখনই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। এনআরসির বাইরে থাকা প্রতিটি ব্যক্তি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার সময়সীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।